মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার সাধারণ সভা সম্পন্ন

স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি এমএ ওয়াদুদ, চেয়ারম্যান মহসীন ও মহাসচিব হারুন

স্টাফ রিপোর্টার:
১৯৯২ সাল থেকে চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা’১৭-এর সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রস্তাব ও সমর্থনের মাধ্যমে ২০১৭ সালের স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ ও উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে মহসীন পাঠান এবং মহাসচিব হিসেবে হারুন-আল-রশীদ নির্বাচিত হয়েছেন।
গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের ৩য় তলায় অনুষ্ঠিত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা-২০১৬ সালের উদ্যাপন পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাড. জহিরুল ইসলাম এবং প্রধান অতিথি ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ। সভার শুরুতেই কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন সাংবাদিক বিএম হান্নান ও গীতা পাঠ করেন সাংবাদিক লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর।
সভার শুরুতেই সব মুক্তিযোদ্ধা ও বিজয় মেলার কর্মকর্তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করা হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মহাসচিব শহীদ পাটোয়ারী ২০১৬ সালের কার্যক্রম, আয়-ব্যয়ের হিসেব ও সম্পদ বিবরণীর লিখিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। রিপোর্টের উপর আলোচনায় অংশ নেন মুক্তিযোদ্ধা অজিত সাহা, রাজনীতিবিদ আলহাজ তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি শরীফ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, সাংবাদিক রহিম বাদশা, সাংবাদিক সোহেল রুশদী, মুক্তিযোদ্ধা মো. হানিফ পাটওয়ারী, মুক্তিযোদ্ধা বিবি দাস, মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম বরকন্দাজ, নারী কাউন্সিলর ফরিদা ইলিয়াছ প্রমুখ।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব শেষে সভার সভাপতি অ্যাড. জহিরুল ইসলাম এজেন্ডা অনুযায়ী ২০১৬ সালের উদ্যাপন পরিষদ ও বিভিন্ন উপ-পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্যে স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদকে দায়িত্ব অর্পণ করেন। এরপর এজেন্ডা অনুযায়ী স্টিয়ারিং কমিটির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা এমএ ওয়াদুদ ২০১৭ সালের চেয়ারম্যান ও মহাসচিব পদে উপস্থিত সবার কাছে প্রস্তাব আহ্বান করেন। চেয়ারম্যান পদে মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংকার মহসীন পাঠান ও অ্যাড. বদিউজ্জামানের নাম প্রস্তাব আসে এবং মহাসচিব হিসেবে সব প্রস্তাবকই হারুন-আল-রশীদের নাম প্রস্তাব করেন। উপস্থিত কর্মকর্তাদের চাহিদানুযায়ী ২০১৭ সালের নয়া চেয়ারম্যান হিসেবে মুক্তিযোদ্ধা ব্যাংকার মহসীন পাঠান ও মহাসচিব হিসেবে হারুন-আল-রশীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পর-পর করতালির মাধ্যমে নবনির্বাচিত নয়া চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে বরণ করে নেয়া হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা. সৈয়দা বদরুন নাহার চৌধুরী, স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য অ্যাড. বিনয় ভূষণ মজুমদার, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ অ্যাড. মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, মুক্তিযোদ্ধা সালাউদ্দিন আহমেদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি তপন সরকার, বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের সভাপতি পীযুষ কান্তি রায় চৌধুরী, বিশিষ্ট কণ্ঠশিল্পী অনিতা নন্দী, জেলা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সাধারণ সম্পাদক সুফী খায়রুল আলম খোকন, বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা স্বপন ভঞ্জ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাড. বদরুল আলম চৌধুরী, সাংবাদিক জাকির হোসেন, এমআর ইসলাম বাবু, চাঁদপুর সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ইয়াহিয়া কিরণ, অ্যাড. দেবাশীষ কর মধু, মেঘনা থিয়েটারের সভাপতি তবিবুর রহমান রিংকু, চাঁদপুর ড্রামার সাধারণ সম্পাদক মানিক পোদ্দার, শ্যাম সুন্দর মন্ডল, আইনজীবী আমির হোগেণ মন্টু, মৎস্যজীবী নেতা আ. মালেক দেওয়ান, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ফেরদৌস মোর্শেদ জুয়েল, লেখক জাহাঙ্গীর হোসেন, সাংবাদিক মানিক দাস, বিমল চৌধুরী, এসএম সোহেল, অভিজিৎ রায়, কামরুল ইসলাম, বাদল মজুমদার, আশিক-বিন-রহিম, সাংস্কৃতিক কর্মী রাজীব চৌধুরী, বাতেন হোসেন, মেহেদী আহসান জীবন, আমির হোসেন বাপ্পী, বিশ্বজিৎ কর রানা, দিদারুল আলম, বাপ্পী চৌধুরী, আলী আফসার বাবু, রিপন কর্মকার, রঞ্জন সূত্রধর প্রমুখ।
আগামি ৪ নভেম্বর বিকেল ৩টা পর্যন্ত সাধারণ সভার কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করা হয়। ওই মুলতবি সভায় পূর্ণাঙ্গ উদ্যাপন পরিষদ ও বিভিন্ন উপ-পরিষদের আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ সদস্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে মর্মে সভা সমাপ্ত করা হয়।