মুজিব বর্ষে ৪র্থ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস উদযাপন

দূষিত খাদ্যের কারণে আমাদের শতকরা ৩৩% রোগ হচ্ছে
…… বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘টেকসই উন্নয়ন-সমৃদ্ধ দেশ, নিরাপদ খাদ্যের বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আয়োজনে মুজিব বর্ষে ৪র্থ জাতীয় নিরাপদ খাদ্য দিবস ২০২১ উদযাপন উপলক্ষে ‘খাদ্যের নিরাপদতা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ এই সভার অয়োজন করা হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বেগম অঞ্জনা খান মজলিশ।
জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্য বলেন, খাদ্য উৎপাদন থেকে খাবার টেবিল পর্যন্ত যাওয়া আমাদের নজর রাখতে হবে। ওই খাদ্য নিরাপদ নয় যে খাদ্য উৎপাদনে ও রান্নায় স্বাস্থ্যবিধি না মানা হয়। আমাদের শরীরে প্রায় শতকরা ৩৩% রোগ হচ্ছে দূষিত খাদ্যের কারণে। নিরাপদ খাদ্য শরীরে ওষুধের মত কাজ করে। যদি ওষুধই খারাপ হয় তাহলে সুস্থ থাকা সম্ভব নয়।
তিনি আরো বলেন, সততার কোন বিকল্প নেই। সচেতন এবং সৎ না হলে কোন কিছুই সম্ভব নয়। যারা দূষিত খাবার বিক্রি করছে তাদের বুঝাতে হবে। যতো না আমরা মোবাইল কোর্ট অভিযান করবো, তার থেকে বেশি বুঝাতে হবে। বুঝাতে হবে এ খাবার আপনার বাসায়ও যেতে পারে।
ভেজাল ও দূষণমুক্ত নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিতকরণে সরকার ‘নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩’ প্রণয়ন করে ২০১৫ সালে ‘বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ’ প্রতিষ্ঠা করেছি। প্রতিষ্ঠানটি নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় বিধি-বিধান প্রণয়নসহ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি, ভেজাল ও দূষণ বিরোধী অভিযান পরিচালনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা কার্যক্রম ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সফলভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন ডা. মো. শাখাওয়াত উল্লাহ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহাবুদ্দিন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মুহাম্মদ মুনতাসির মাহমুদ, চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, জেলা ক্যাবের কার্যনির্বাহী সদস্য বিপ্লব সরকার, মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি চাঁদপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আজিজ দেওয়ান, চাইনিজ মালিক সমিতির পক্ষে মো. জাহিদুল হক মিলন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মো. ছানাউল্লাহ ও গীতা পাঠ করেন বিমল দাস।
উল্লেখ্য, নিরাপদ খাদ্যের ৫টি ধাপ। যেমন- বাছাই করা, পরিষ্কার করা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, সঠিক তাপমাত্রা রান্না করা, সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা ও পঁচা-বাসি খাবার সঠিক স্থানে ফেলা।
রেফ্রিজারেটরে খাদ্য সংরক্ষণের নিয়মাবলী হলো- ডীপ কম্পার্টমেন্ট আবৃত কাঁচা মাছ ও মাংস সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করুন। মাঝের তাকে কাঁচা গ্রহণযোগ্য খাদ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করুন। নিচের তাকে ডিম ও দুগ্ধ জাতীয় খাদ্য সংরক্ষণের জন্য। ড্রয়ারে শাকসবজি এবং ফলমূল সংরক্ষণের জন্য। দরজার তাকসমূহে প্রাকৃতিক প্রিজাভেটিভ যুক্ত খাদ্য ও পানি সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করুন।
রেফ্রিজারেটরে রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন। রেফ্রিজারেটরে নতুন খাদ্যদ্রব্য পুরাতন খাদ্যদ্রব্যের পেছনে রাখুন। গরম খাবার ফ্রিজে রাখবেন না। ফ্রিজে খোলা খাবার রাখবেন না, ঢাকনাযুক্ত পাত্রে রাখুন।
খাদ্য সংরক্ষণে অবশ্যকরণীয় যেমন, মাছ মাংস জাতীয় খাবার থেকে ফলমূল ও শাকসবজি জাতীয় খাবার পৃথকভাবে রাখতে হবে। রান্না করা খাবার ও খাদ্য পরিষ্কারক দ্রব্য আলাদা থাকতে হবে। শাকসবজি ও ফলমূল কাটা হলে যত দ্রুত সম্ভব রান্না করে ফেলতে হবে। কাটা শাক-সবজি ও ফলমূল রান্নার আগে পর্যন্ত দেখে রাখতে হবে। চিনি ও লবণ জাতীয় সংরক্ষণযোগ্য খাবারগুলো মেঝে থেকে কমপক্ষে ৬ ইঞ্চি উপরের স্থানে রাখতে হবে। খাদ্যদ্রব্য কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় থেকে দূরে রাখতে হবে।
রান্নার স্থানে পালনীয় বিষয়সমূহ যেমন, রান্না স্থানে মাথায় টুপি বা ক্যাপ পরিধান করুন। রান্নার স্থানে হাতে গ্লাভস পরিধান করুন। রান্না স্থানে যে কোন অলংকার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। রান্নার স্থানে প্রবেশের আগে সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে। রান্নাঘরে ধূমপান করা যাবে না।
০৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১।