মৃত্যুর দায়ভার নিয়ে প্রশ্ন চলন্ত ট্রেনে চিকিৎসা না পেয়ে যাত্রীর মৃত্য

স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথে চলন্ত ট্রেনে চিকিৎসা না পেয়ে বিশ^নাথ (৪৫) নামে এক যাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে, সোমবার রাত ১০টায় চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের হাজীগঞ্জ এলাকায়। চাঁদপুর রেলওয়ে থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে। এ ঘটনায় রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের পর লাশ ময়নাতদন্ত শেষে মঙ্গলবার দুপুরে তার আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ পথে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, চলন্ত ট্রেনে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থা না রাখায় যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এর দায়ভার এখন কে নিবে?
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মেঘনা এক্সপ্রেস মেইল ট্রেনটি লাকসাম থেকে রাত সারে ৮টায় ছেড়ে চাঁদপুরের দিকে যাত্রা করে। পথিমধ্যে রাত সারে ৯টায় হাজিগঞ্জ এলাকায় ট্রেনটি আসলে চাঁদপুর জেলাধীন কচুয়া উপজেলার গোলবাহার এলাকার নোয়াবদ্দা গ্রামের মৃত প্রান বল্লব সরকারের ছেলে মৎস্য ব্যবসায়ী বিশ^নাথের বুকে ব্যাথা করতে থাকে। সে ব্যাথার যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকে। তখন তাকে কর্তব্যরত পুলিশ বিভিন্ন ভাবে সেবা দেওয়ার চেস্টা করে। কিছুক্ষণের মধ্যে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ট্রেনে কোন চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় তাকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি। পরক্ষণে রাত ১০টায় সে মারা যায়। পরে রেলওয়ে থানার ওসির নির্দেশে ট্রেন থেকে লাশটি উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাতদন্ত শেষে শিবু সরকারের লাশ তার মেয়ে লিপি সরকার ও নিকটাত্মীয়দের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে চাঁদপুর রেলওয়ে থানার এসআই কামাল জানান। এ ব্যাপারে রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মো. জাহাঙ্গীর আলমমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, চাঁদপুরে ট্রেনে যাত্রী মারা যাওয়ার ব্যাপারে আমার জানা নাই। ট্রেনে কোন যাত্রী অসুস্থ হয়ে পরলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার জন্য ট্রেনের গার্ডের কাছে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য (ফার্স্ট এইড কিট) একটি ঔষধের বক্স রয়েছে, সেখান থেকে চিকিৎসা নেবে। চলন্ত ট্রেনে ডাক্তার থাকার নিয়ম আছে কিনা তা আমার জানা নেই। আমাদের দেশে মনে হয় এ ধরনের নিয়ম নেই, বিদেশে এসব নিয়ম রয়েছে। আমি চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যেতে যদি অসুস্থ হয়ে যাই, সেক্ষেত্রে পথে বিরতির স্থানে নেমে চিকিৎসা নিতে হবে।