মৃত মানুষ নিয়েও রাজনীতির প্রতিহিংসা!
স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল যে সব সভ্যতা, ভব্যতা, শিষ্টাচার ও সৌজন্যতাবোধকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে তা নিয়ে সচেতনমহল সংশয় প্রকাশ করেছে। নেতা-কর্মীরা তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তারা বলছেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা, দ্বন্দ্ব-কোন্দল থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই দ্বন্দ্ব মৃত ব্যক্তি পর্যন্ত গড়াবে তা মোটেই কাম্য নয়। যা সম্প্রতি চাঁদপুরে ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ ক’জন নেতার আচরণে প্রকাশ পেয়েছে। এ ধরনের আচরণ সমাজে খুবই খারাপ প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল।
গত ৬ মে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপির মা ইন্তেকাল করেন, পরদিন ৭ মে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে সম্প্রতি চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের বাবা মারা যান। গত বছর চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং গণপরিষদ সদস্য মরহুম অ্যাড. সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মারা যান। এই তিনজনের জানাজায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ তাদের অনুসারী ক’জন নেতা অংশ নেননি। তাদের এই অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। বিষয়টি যেমনি দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে, তেমনি সাধারণ মানুষও রাজনীতি থেকে এই সামান্য সৌজন্যতাবোধ বিদায় নেয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বেশ কিছু নেতৃবৃন্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, মরহুম এমএ ওয়াদুদ হচ্ছেন ছাত্রলীগের প্রথম নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর। তাঁর কন্যা ডা. দীপু মনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পাঁচবারের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী। এমএ ওয়াদুদের সহধর্মিণী, শিক্ষামন্ত্রীর মায়ের জানাজায় চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ তাদের অনুসারীরা অংশ নেননি। এর আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, গণপরিষদ সদস্য, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক মরহুম অ্যাড. সিরাজুল ইসলামের স্ত্রীর জানাজায়ও তাঁরা উপস্থিত হননি। সম্প্রতি অর্থাৎ গত মাসে চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক এবং চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েলের বাবার জানাজায়ও তারা অংশ নেননি। তাঁদের এই অনুপস্থিতি সবার নজর কেড়েছে।
দলের নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মন্তব্য হলো- মৃত মানুষ নিয়ে তো কোনো প্রতিহিংসা বা রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব থাকতে পারে না। প্রতিহিংসা যদি জানাজা পর্যন্ত গড়ায়! তাহলে প্রজন্ম কী শিখলো আমাদের নেতাদের কাছ থেকে!?
০৯ মে, ২০২৩।
