স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুরে যৌতুকের জন্য স্বামী বাঁশ দিয়ে মাথায় ও শরীরে বেদমভাবে পিটিয়ে স্ত্রী কাঞ্চন মালা (২৮) কে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি রোববার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর এলাকায় ঘটেলেও গত সোমবার রাতে চাঁদপুর থেকে আহত গৃহবধূকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে সে নারায়নগঞ্জ মুগড়াপাড়া এলাকায় মারা যায়।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার মঙ্গলবার (৮ জুন) বিকেলে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় একটি হত্যার অভিযোগ করেছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান মামলায় অভিযুক্ত গৃহবধূর স্বামী কৃষক রাজা মিয়া বেপারীকে পালিয়ে যাওয়া সময় নারায়নগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার মুগড়াপাড়া থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহায়তায় আটক করেছে।
জানা যায়, ৭ বছর আগে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের লক্ষীচর বেপারী বাড়ির রাজা মিয়া বেপারীর সাথে একই এলাকার কাঞ্চন মালার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের সংসারে এক এক করে তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে। রাজা মিয়ার প্রথম সন্তান মো. খলিলুর রহমান বেপারী (৫ বছর), মেয়ে সুফিয়া বেগম (৩ বছর) ও ৬ মাস বয়সী একটি শিশু মো. জাহিদ বেপারী রয়েছে।
নিহত গৃহবধূর ভাই মো. শাকিল জানান, বিয়ের পর থেকে রাজা মিয়া কয়েক মাস পরপর যৌতুক দাবি করে, অনেকবার তাকে যৌতুক দেওয়া হয়। যৌতুক না পেলে সে কাঞ্চনমালাকে নির্যাতন করতো।
এভাবে সে দীর্ঘদিন যাবত গৃহবধূকে নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছিল। গত রোববার (৬ জুন) তিন সন্তানের জননী গৃহবধূ কাঞ্চন মালাকে তার স্বামী রাজা মিয়া বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেওয়া নিয়ে পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কৃষক রাজা মিয়া স্ত্রী কাঞ্চন মালার সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা বাঁেশর টুকরা দিয়ে গৃহবধূকে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেদমভাবে পিটিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে গুরুতর আহত করে।
আহত গৃহবধূকে রোববার ও সোমবার দুপুর পর্যন্ত কোন চিকিৎসা নাকরে বাড়িতে ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে গৃহবধূর বাবার বাড়িতে এ খবর পৌছলে,তারা ও গৃহবধূর স্বামীসহ তাকে ট্রলার যোগে চাঁদপুর এনে সোমবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মা ও শিশু হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক গৃহবধূ কাঞ্চন মালার অবস্থার অবনতি দেখে তাকে সোমবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেলে রেফার করে। চাঁদপুর থেকে ঢাকা নেওয়ার পথে রাত ৮টায় গৃহবধূ কাঞ্চন মালা নারায়নগঞ্জ মুগড়াপাড়া এলাকা যাওয়ার পর সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে মারা যায়।
পরে গৃহবধূর লাশ রাত ২টায় চাঁদপুরে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনার পর গৃহবধূর স্বামী ঘটণাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। চাঁদপুর সদর মডেল থানায় গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়ার পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শাহজাহান বিশেষ ব্যবস্থাগ্রহণ করে গৃহবধূর স্বামী রাজা মিয়া বেপারীকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহায়তায় আটক করে চাঁদপুর নিয়ে আসার ব্যবস্থা করেছেন।
০৯ জুন, ২০২১।
