রোটারী গভর্নর আতাউর রহমান পীরের সংক্ষিপ্ত জীবনী

ইলশেপাড় রিপোর্ট
মরমি কবি ও বিশিষ্ট আলেমেদ্বীন শাহ আছদ আলী পীর (রহ.) এর প্রপৌত্র এবং স্বনামধন্য শিক্ষক (মরহুম) আব্দুল মান্নান পীর ও আইয়ুবুন্নেছা খাতুন (মরহুমা)-এর বড় ছেলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ মদন মোহন কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল লে. কর্নেল (অব.) এম আতাউর রহমান পীর ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের ৮ এপ্রিল সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর মহল্লায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলী হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৬৮ খ্রিস্টাব্দে সুনামগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে ১৯৭১ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এমসি কলেজ থেকে রসায়ন বিজ্ঞানে অনার্স এবং ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রসায়ন বিজ্ঞানে মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দে ময়মনসিংহের আঠারবাড়ি কলেজ থেকে তিনি শিক্ষকতা শুরু করে পরে একই জেলার গৌরীপুর কলেজে অধ্যাপনা করেন। ১৯৮০ খ্রিস্টাব্দে জানুয়ারি মাসে তিনি মদন মোহন কলেজ, সিলেটে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন এবং ২০০২ খ্রিস্টাব্দ থেকে প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত থেকে ২০১০ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর থেকে বিএড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন এবং ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রথম শ্রেণিতে এমএড ডিগ্রি লাভ করেন।
শিক্ষাবহির্ভূত কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরে অফিসার হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক কমিশনপ্রাপ্ত হন এবং ২০০৬ সালে লে. কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন এবং বিএনসিসি ২ ময়নামতি ব্যাটালিয়নের কমান্ডার হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে ২০১০ খ্রিস্টাব্দে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০০১ খ্রিস্টাব্দে সিলেট মুক্তিযুদ্ধ একাডেমি কর্তৃক সম্মাননা পদক লাভ করেন।
২০০২ খ্রিস্টাব্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক সম্মাননা ও স্বর্ণপদক লাভ করেন। এছাড়া ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ স্কাউট কমিশনার হিসেবে তাঁকে সম্মাননা পদক প্রদান করা হয়। অবসর গ্রহণের পর ২০১১ খ্রিস্টাব্দে বিএনসিসি থেকে তাকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়।
রোটারীয়ান এম আতাউর রহমান পীর ১৯৯৭-৯৮ রোটারী বর্ষে রোটারী ক্লাব অব জালালাবাদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সে বছর শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসেবে সম্মাননা লাভ করেন। তিনি ১৯৯৯-২০০০ রোটারীবর্ষে অ্যাসিসট্যান্ট গভর্নর হিসেবে এবং পরবর্তীতে ডেপুটি গভর্নর, জেলা সেক্রেটারী, এডিশনাল ট্রেইনার, চেয়ারম্যান গ্র্যান্ট ম্যানেজমেন্ট সেমিনার, চেয়ারম্যান জেলা কনফারেন্সসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি রোটারী লিডারশিপ ইন্সটিটিউটের একজন গ্র্যাজুয়েট ও ফ্যাকালটি মেম্বার।
তিনি সিলেট মোবাইল পাঠাগার, মেট্রোপলিটন ল’ কলেজ, সিলেট এবং মেট্রোপলিটন কিণ্ডারগার্টেনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। ২০০৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি সুনামগঞ্জ শহরে শাহ আছদ আলী পীর (রহ.) ফাউন্ডেশন গঠন করে ওই সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য মেধাবৃত্তির প্রবর্তনসহ একই বছর জামেয়া হাফিজিয়া দরগাহে শাহ আছদ আলী পীর (রহ.) নামে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর মহল্লায় একটি দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। এছাড়া ২০১৪ খ্রিস্টাব্দে সিলেট এয়ারপোর্ট এলাকায় তার নিজ ভূমিতে একটি হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন। বাংলা একাডেমি, বাংলাদেশ রসায়ন সমিতি, ঢাকা, কেন্দ্রিয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ, সিলেট, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট, শহর সমাজসেবা প্রকল্প, সিলেট, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, সিলেট, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ, সুনামগঞ্জ, ডায়াবেটিক সমিতি, সুনামগঞ্জ, সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, সুনামগঞ্জসহ বিভিন্ন সংগঠনের তিনি আজীবন সদস্য এবং যমযম বাংলাদেশের কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতিসহ বহু সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।
জালালাবাদ রোটারী হাসপাতাল, সিলেটের তিনি ট্রাস্টি মেম্বার। তাছাড়া ভাষা আন্দোলনের সূচনাকারী সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ, সিলেট বিভাগীয় কমিটির তিনি সভাপতি এবং আব্দুস সামাদ আজাদ ফাউন্ডেশন, ঢাকা ও মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশন, সিলেটের তিনি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জ্ঞান সাধনা ও লেখালেখি করে তিনি অবসর সময় কাটান। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থরাজির মধ্যে রয়েছে- দ্য ক্রিড অভ ইসলাম (অনুবাদ); ইসলাম: কালজয়ী জীবনাদর্শ (প্রবন্ধ)। জেনারেল ওসমানী (সম্পাদিত), সুখের সন্ধানে (প্রবন্ধ), রাহমাতুল্লিল আলামীন (জীবনীগ্রন্থ), Rotary: Making A Difference সহ ১৫টিরও বেশি গ্রন্থ।
তাঁর সহধর্মিণী ফিরোজা আক্তার একজন স্কুল শিক্ষিকা, রোটারিয়ান ও ইনার হুইল ক্লাব অব সিলেটের প্রাক্তন চেয়ারম্যান। এ দম্পতির দুই ছেলে (রানা এমএল রহমান পীর ও রুমেল এমএস রহমান পীর) বিদেশে লেখাপড়া শেষ করে বাংলাদেশের দু’টি প্রতিথযশা বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যাপনারত আছেন। বড় পুত্রবধূ ডা. বিলকিস সুলতানা একজন এমবিবিএস, এমডি এবং ছোট পুত্রবধূ এমএ, এমবিএ। একমাত্র মেয়ে নাবিলা মাহজাবিন রিয়া কলেজে অধ্যায়নরত। তাদের দুই নাতি ও দুই নাতনি রয়েছে।