লকডাউনের ৩য় দিনে প্রশাসন ও পুলিশের তৎপরতায় ফাঁকা হাজীগঞ্জ বাজার

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকার ঘোষিত সারাদেশের মতো হাজীগঞ্জেও চলছে সর্বাত্মক লকডাউন। উপজেলা প্রশাসন ও হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের কঠোর তৎপরতায় হাজীগঞ্জ বাজারসহ ফাঁকা উপজেলার হাট-বাজারগুলো। বন্ধ রয়েছে সব দোকানপাট, মার্কেট ও শপিংমল। দু’একটি রিকশা, সিএনজিচালিত স্কুটার ও প্রয়োজনীয় যানবাহন চললেও নেই গণপরিবহন। তাও যাত্রী এবং চালককে পড়তে হচ্ছে পুলিশি জেরার মুখে।
সর্বাত্মক লকডাউনের প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (১ জুলাই) থেকে শনিবার (৩ জুলাই) পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে হাজীগঞ্জ বাজারেসহ উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লকডাউন কার্যকর করতে গত তিন দিনে রামগঞ্জমুখী হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়, চাঁদপুরমুখী হাজীগঞ্জ-চাঁদপুর সড়কের হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে মান্নান ফিলিং স্টেশনের সামনে, কচুয়ামুখী হাজীগঞ্জ-কচুয়া-গৌরিপুর সড়ক ও কুমিল্লামুখী হাজীগঞ্জ-কুমিল্লা সড়কের হাজীগঞ্জ পৌরসভা কার্যালয়ের সম্মুখে পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে দায়িত্ব পালন করছে।
এই লকডাউন চলাকালীন সময়েও নানা প্রয়োজনসহ কারণে-অকারণে বেশকিছু মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছেন। যারা বিনা প্রয়োজনে বাইরে বের হয়েছেন তাদের পুলিশ চেকপোস্ট থেকে ফিরে যেতে হয়েছে। আবার যারা লকডাউনের বিধি নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদের জরিমানা গুণতে হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে তাদের জরিমানা করেন।
এছাড়া ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে ছিলো ট্রাফিকের দু’জন সার্জেন্টসহ অন্যান্য সদস্যদের সরব উপস্থিতিও ছিল। তারাও লকডাউন বাস্তবায়নে এবং জনসচেতনতায় দিনব্যাপী কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে গ্রামেও মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণে এবং মোড়ে মোড়ে দোকানপাট বন্ধ রাখা ও আড্ডা ভেঙে দিতে কাজ করছেন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জসহ পুলিশের ভ্রাম্যমাণ টিম।
করোনা সংক্রম প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, লকডাউনসহ সরকারি বিধি-নিষেধ, প্রশাসন ও পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর তৎপরতার পর এখনোও বেশিরভাগ মানুষ মাস্কের ব্যবহার না করাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। বিশেষ করে উপজেলা শহরের বাইরে এমন চিত্র দেখা যায়।
তাই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার, পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. সোহেল মাহমুদ ও থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ সর্বসাধারণকে মাস্ক পরিধান ও স্বাস্থ্যবিধিসহ লকডাউনের বিধি-নিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানান।

০৪ জুলাই, ২০২১।