ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধ হচ্ছে বহু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
এস এম সোহেল
দেশব্যাপী করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার করোনার মোকাবেলা করার জন্য ১ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করছে সরকার। বন্ধ দোকানপাট, চলছে না গণপরিবহনও। ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ নিমজ্জিত হচ্ছে জীবন-জীবিকা। লকডউনের প্রভাবে বিপাকে পড়েছেন চাঁদপুরের কয়েক হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ক্ষতির মুখে তাদের অনেকেই এখন ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। কিভাবে নির্বাহ হবে সংসার ও ঋণের। ঘুরে দাঁড়াতে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে প্রণোদনার দাবি জানিয়েছেন।
চাঁদপুর শহরের কালীবাড়ি, মীর শপিং, হকার্স মার্কেট, হাকিম প্লাজা, সাউথ প্লাজা, চাঁদপুর টাওয়ার, পৌর সুপার মার্কেট, মুক্তিযোদ্ধা মার্কেট, নতুন বাজার, বাসস্ট্যান্ডে ফয়সাল কমপ্লেক্স, বাবুরহাট বাজার, পুরানবাজারের পোশাক, টেইলার্স, জুতা, ক্রোকারিজসহ বিভিন্ন আইটেমের প্রায় সহস্রাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মহামারি করোনায় স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ওইসব ব্যবসায়ীরা।
চাঁদপুরের অধিকাংশ ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর লকডাউনে যে ক্ষতি তাদের হয়েছে সেই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতেই কতদিন লাগবে তা জানা নেই, তার উপর আবার এবার কঠোর লকডাউন। শহরের অধিকাংশ ব্যবসায়ীরা ব্যাংক বা সমিতির কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন। কারোর দৈনিক সমিতি, সাপ্তাহিক কিস্তি বা আবার মাসিক কিস্তি। ব্যবসায়ীদের যে কোন মূল্যে এই কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই লকডাউনে বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। যেসব প্রতিষ্ঠান কেনা-বেঁচার উপর নির্ভরশীল সেসব প্রতিষ্ঠানগুলো লকডাউনে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। করোনার সংক্রমণে সরকারি কোন সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকে ব্যবসায়ী।
এ বিষয়ে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালীবাড়ি মন্দির সংলগ্ন জুতার দোকানদার মো. হোসেন ইসলাম জানান, লকডাউনের আগে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দোকান খোলা রেখে কয়েক জোড়া জুতা বিক্রি করে যে লাভ হয় তাই দিয়েই সংসার চালাই, ঋণ পরিশোধ করি। কিন্তু এখন তো লকডাউনে বাসায় বসে বসে দিন কাটাচ্ছি। দোকানের আয় দিয়ে দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন, বাসা ভাড়া ও সংসার চলে। লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধহারে অনাহারে আমাদের দিন কাটাতে হয়। তার উপর ঋণের বোঝা। কবে আবার খুলতে পারব দোকান তা অনিশ্চিত। সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দিতো তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।
অন্যদিকে ক্ষুদ্র কাপড়ের ব্যবসায়ী ছোবহান বলেন, দোকান তো বন্ধ, বাইরে যে অন্য কাজ করবো তাও বন্ধ, বাসায় বন্দী জীবন কাটাই। আয়-রোজগার নাই। সরকার যদি আমরা যারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তাদের সহায়তা না করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন এভাবে থাকলে হয়ত না খেয়েই মরে যেতে হবে। আমরা ব্যবসায়ীরা আর্থিক সহায়তা চাই। প্রতিনিয়ত মাথার উপর ঋণের বোঝা ভারী হচ্ছে। এহেন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে দোকান বন্ধ করে অন্য পন্থা অবলম্বন করা ছাড়া কোন গতি থাকবে না।
আরো কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, ধার-দেনা ও এনজিও থেকে সুদে টাকা এনে তারা এ ব্যবসা করছেন। কঠোর লকডাউনের কারণে দোকান বন্ধ রয়েছে। দোকানের আয় দিয়ে দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন, বাসা ভাড়া ও সংসার চলে। লকডাউনে দোকান বন্ধ থাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে অর্ধহারে অনাহারে আমাদের দিন কাটাতে হয়। তার উপর ঋণের বোঝা। সরকারের পক্ষ থেকে যদি আমাদের কিছু আর্থিক সহায়তা দিতো তাহলে আমাদের অনেক উপকার হতো।
এ বিষয়ে হাকিম প্লাজা ব্যবসায়ী সমিকির সভাপতি মো. সফিক বলেন, এই লকডাউনে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঠিকই তারপরও এই মহামারী থেকে মানুষকে রক্ষা করার জন্য আমাদের সরকারের সিদ্ধান্তগুলো মেনে চলার অভ্যাস হতে হবে।
এই পরিস্থিতিতে এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের যদি স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে কিছুটা উজ্জীবিত হবে এবং আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করেন।
১২ জুলাই, ২০২১।
