
নোমান হোসেন আখন্দ
চাঁদপুর-৫ শাহরাস্তি-হাজীগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্য, সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম চাঁদপুর সড়ক বিভাগের অধীন শাহরাস্তির প্রধান সড়ক নির্মাণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও প্রস্তাবিত সুপারিশ বাস্তবায়নে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির নিকট ডিও পত্র দিয়েছেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি পত্রে উল্লেখ করেন, নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত ব্যাপক অনিয়মে লিপ্ত রয়েছে। তার মধ্যে মানহীন পোড়া মাটি, ইটের পরিবর্তে ব্যবহার অযোগ্য সুড়কী, শেওলা যুক্ত পাথর, রাবিশ, পাথরের বদলে বালির পরিমান বেশি দিয়ে কোন তোয়াক্কা না করেই রাস্তা প্রশস্তকরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি রাস্তা প্রশস্তকরণের ক্ষেত্রে পুকুরের পাশে কোন ধরনের ভাঙ্গনরোধের ব্যবস্থা না করা এবং রাস্তা পরিস্কার না করে।
যত্রতত্র পিচ ঢালাইয়ের কাজ করছে। যাতে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ধ্বসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাস্তার কার্পেটিং প্রয়োজন মত দেয়া হচ্ছে না। রাস্তা প্রশস্থকরণের ক্ষেত্রে ১৮ ফিট করার কথা থাকলে ও কোন কোন স্থানে ১৩ বা ১৪ ফিট কাজ করছে। অথছ তারা ১৮ ফিটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। মুদাফফরগঞ্জ-চিতোষী রামগঞ্জ মহাসড়কের অংশে ৩টি ব্রিজ (১) স্বেতীনারায়নপুর মোল্লারদজ্জা সংলগ্ন ব্রিজ (২) উঘারিয়া পূর্ব বাজার সংলগ্ন ব্রিজ (৩) কাঁলচৌ গ্রাম সংলগ্ন ব্রিজ ভেঙে নতুনভাবে বানানোর কথা ছিল। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ব্রিজগুলো নতুনভাবে তৈরী না করে। পুরানো ব্রিজগুলো সামান্য মেরামত ও প্রলেপ দিয়েই কাজ সমাপ্ত করে। তিনটি ব্রিজের পুরো টাকাই তারা তুলে নিবে বলে জানা যায়। এ ব্যাপারে দ্রুত তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এছাড়া গত ৩ সেপ্টেম্বর অপর একটি পত্রে সড়কগুলো বিষয়ে প্রস্তাবনা ও সুপারিশ প্রেরণ করেন। এতে উল্লেখ করেন, জলাশয় এলাকায় রাস্তার পাশে গার্ড ওয়াল বা প্যালাসাইড এ ব্যবস্থা করা প্রয়োজন, যেসব স্থানে রাস্তাগুলো বাজারের মধ্যে বা নিচু এলাকায় সেখানে বিটুমিনের রাস্তা না করে কনক্রিট আরসিসি এর তৈরি প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিবছর মেরামতে প্রচুর অর্থ নষ্ট হবে। শাহরাস্তি পৌর এলাকায় পাকা ড্রেন নির্মিত হয়েছে। সড়ক ও জনপদ এর রাস্তাগুলো ১৮ ফিট চওড়া হলে ড্রেনের ওয়াল পর্যন্ত কয়েক ফিট জায়গা খালি ও নিচু থাকবে। সেখানে পানি জমে রাস্তা নষ্ট হবে। দোয়াভাঙ্গা থেকে রেললাইন পর্যন্ত প্রায় ৩০০ ফিট মাত্র। এই অংশে রাস্তাটি ১৮ ফিট থেকে বাড়িয়ে পাকা ড্রেনের ওয়ালের সাথে মিশিয়ে দিলে পানি জমার সম্ভাবনা থাকবে না। চওড়ায় মাত্র ৬ বা ৭ফিট বাড়াতে হবে দৈর্ঘ্যে ৩০০ফিট হতে পারে। এই সংশোধনী কাজগুলো করতে সরকারের অতি সামান্য অর্থ ব্যায় হবে। কিন্তু রাস্তাগুলো বহু বৎসর ভালো থাকবে, এবং ভবিষ্যতে মেরামত বাবদ অর্থের অপচয় হবে না। এ ব্যাপারে আপনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন এই প্রত্যাশা করছি।
০৮ অক্টোবর, ২০১৯।
