এস এম সোহেল
প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে বাড়ি ফিরছেন রাজধানীবাসী। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই ট্রেন, বাস ও লঞ্চে ঝাঁকে ঝাঁকে মানুষ ছুটছে শেকড়ের টানে। কর্মব্যস্ত নগরী, ক্লান্তিকর জীবন থেকে কিছুদিনের জন্য প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে চিরচেনা নিজ নিজ বাড়িতে ছুটে চলেছেন নগরবাসীরা।
পদে পদে ভোগান্তি। অসহনীয় যানজট, মারাত্মক পরিবহন সংকট, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, হয়রানি, মালামাল নিয়ে কুলিদের টানাটানি, বাস শ্রমিকদের টানা-হেঁচড়া, পকেটমার ও মলমপার্টির দৌরাত্ম্য। এমনি নানা ভোগান্তিতে নাকাল মানুষ, তবু সব উপেক্ষা করে ছুটছে মানুষ শেকড়ের টানে, বাড়ির পানে। আপনজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে যে যেভাবে পারছেন প্রিয় মাটিতে ফিরছেন। কারণ এক দিন পর পবিত্র ঈদুল আজহা।
সরজমিনে গিয়ে চাঁদপুর লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার থেকেই মানুষ বাড়ি-ঘরে আসতে শুরু করেছে। গতকাল শুক্রবার নাড়ির টানে মানুষ চাঁদপুরের নদীপথ, রেলপথ ও সড়কপথে যানবাহনে ভিড় শুরু হয়ে গেছে। ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ শত কষ্ট ও দুর্ভোগ স্বীকার করে বাড়ি-ঘরে ফিরলেও ঈদ আপনজনদের সাথে করতে পারার আনন্দে সব ভুলে যান।
এভাবেই দুর্ভোগ-যাত্রাকে আনন্দযাত্রায় পরিণত করে কর্মস্থল ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ। ঈদের ছুটি শুরুর আগে বৃহস্পতিবারই শেষ অফিস। তাই অনেকে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দেশের বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছে ট্রেনে, বাসে অথবা লঞ্চের মাধ্যমে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে বাড়িমুখী মানুষ আসতে শুরু করে। বাস, লঞ্চ ও ট্রেনের ছাদে উঠে চরম ঝুঁকি নিয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। যাত্রীরা লঞ্চঘাটে এসে লঞ্চে উঠতে যেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়। চাঁদপুর ঘাটে এসে গন্তব্যস্থল বাড়িতে পৌঁছতে রিকশা, অটোরিক্সা ও সিএনজি স্কুটার ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করেছে। এ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ থাকলেও প্রতিকার পাননি ঘরমুখো মানুষ। পথে পথে এসব ভোগান্তির পরও স্বজনের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করতে যাওয়া মানুষের মধ্যে উৎসবের কমতি ছিল না।
চাঁদপুর বন্দর কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক জানান, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে চাঁদপুর লঞ্চ টার্মিনাল ঘাটকে সিসি ক্যামেরা রয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা যাতে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না চড়ে সেজন্য আমরা বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষ থেকে অতিরিক্ত লঞ্চ রিজার্ভ রেখেছি। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে এই অতিরিক্ত লঞ্চগুলো দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচল করবে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে না পারে সেজন্য কয়েকজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রাখা হয়েছে। যেন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওই সমস্ত যাত্রীবাহী লঞ্চের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়। এছাড়া নদীতে কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশ সার্বক্ষণিকভাবে তদারকি করে যাচ্ছে।
১০ আগস্ট, ২০১৯।