যেখানে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা ও উন্নয়নের কথা হবে সেখানেই আমি থাকবো
স্টাফ রিপোর্টার :
চাঁদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের নবঘোষিত কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সবাইকে ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন পর জেলা আওয়ামী লীগের প্রত্যাশিত পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ায় দলীয় সভানেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। নবঘোষিত কমিটিতে আমার নাম না থাকলেও যেহেতু জননেত্রী শেখ হাসিনা কমিটি অনুমোদন করেছেন তাই কমিটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। দলের ত্যাগী নেতাদের কমিটি থেকে বাদপড়া স্ব-স্ব এমপিদের ব্যর্থতা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তারপরও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার স্বার্থে, দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বৃহত্তর আওয়ামী পরিবারকে ঐক্যবদ্ধ থেকে আগামি নির্বাচনে চাঁদপুরের ৫টি আসনে নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।
আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী আরো বলেন, চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ যদি চান তবে আমি আগের মতোই জেলা আওয়ামী লীগের সকল কর্মকা-ে অংশগ্রহণ করবো। আর কেউ না বললেও যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের কথা, সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কথা, দেশ ও জনগণের উন্নয়নের কথা হবে সেখানেই আমি থাকবো। পদ বড় কথা নয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতেগড়া দল আওয়ামী লীগের একজন সদস্য হতে পেরেই আমি গর্বিত। চাঁদপুরে যদি কখনো আওয়ামী লীগের দুঃসময় আসে, একজন কর্মীও যদি অবশিষ্ট থাকবে তবে সে হবে ওচমান গনি পাটওয়ারী। তিনি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চাঁদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এসব কথা বলেন।
প্রেসক্লাব সভাপতি শরীফ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জি এম শাহীনের পরিচালনায় সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন দৈনিক চাঁদপুর প্রতিদিনের সম্পাদক ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, দৈনিক মেঘনা বার্তার সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মিলন, দৈনিক চাঁদপুর খবরের সম্পাদক সোহেল রুশদী, প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি আলম পলাশ, ইউএনবি ও দি ডেইলি ইন্ডিপেন্ডেন্টের জেলা প্রতিনিধি দেলোয়ার আহমেদ, একাত্তর টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কাদের পলাশ, দৈনিক মতলবের আলোর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কে এম মাসুদ প্রমুখ। এছাড়া স্থানীয় বিভিন্ন দৈনিক সম্পাদক সম্পাদক, বার্তা সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিক, জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারীর সাথে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাটওয়ারী, প্রবীণ শিক্ষাবিদ শেখ আবদুল হাই, জেলা পরিষদ সদস্য নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী, মুকবুল হোসেন মিয়াজী প্রমুখ। এ সময় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শত শত নেতা-কর্মী-সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
আলহাজ ওচমান গনি পাটওয়ারী তার বক্তব্যের শুরুতে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা, জাতীয় চার নেতাসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের বর্ণনা দিতে যেয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে ডিএন উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু হয়। ১৯৯২ সাল থেকে আমি চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। আমার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। প্রায় দু’দশক ধরে চাঁদপুরে জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছি। এর মধ্যে ডা. দীপু মনির সংসদ নির্বাচন, ইউসুফ গাজীর সংসদ নির্বাচন, নাছির উদ্দিন আহমেদের পৌর নির্বাচন উল্লেখযোগ্য। দলের অগণিত নেতা-কর্মী-সমর্থকদের ভালোবাসা, চাঁদপুরের সর্বস্তরের মানুষের দোয়া এবং শ্রদ্ধেয় জনপ্রতিনিধিদের ভোটে বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে আমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছি। আমি আপনাদের সবার সেই আস্থা ও বিশ্বাস ধরে রাখতে চাই। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
তিনি আরো বলেন, আমি জাতির পিতার আদর্শের সন্তান, জননেত্রী শেখ হাসিনার ছোট ভাই। পদ-পদবির লোভ আমি কখনো করিনি। পদে থাকি বা না থাকি, আওয়ামী লীগ আমার একমাত্র ঠিকানা। তিনি বিষ্ময়ের সুরে বলেন, শুধুমাত্র আমার বন্ধু, ভাই, ভাগিনা, ভগ্নিপতি কিংবা ঘনিষ্ঠজন হওয়ার কারণে অনেক যোগ্য, ত্যাগী নেতাকে পদ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারপরও জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখার জন্য আওয়ামী লীগের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে।
দলীয় সভানেত্রীর সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য দলে তার অনুসারী ও শুভাকাক্সক্ষীদের শান্ত ও ধৈর্য্য ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করেন। আমরা ত্যাগে বিশ্বাসী। নেত্রী সব ত্যাগী নেতাকেই মূল্যায়ন করবেন। আমার বা আমার পরিবারের ব্যাপারে প্রতিহিংসাপরায়ন হয়ে কেউ নেত্রীকে ভুল তথ্য দিয়ে থাকলে আমি নেত্রীর প্রতি বিনীত আহ্বান জানাবো- আপনি অভিযোগগুলো তদন্ত করে যাচাই করে দেখুন। তাহলে সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যত চক্রান্ত করেন না কেন- আমাকে ঘরে আটকে রাখতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার আদর্শ থেকে আমাকে দূরে সরিয়ে রাখা যাবে না।