স্টাফ রিপোর্টার
চাঁদপুর জেলায় নৌ পুলিশের সবগুলো ফাঁড়ির মধ্যে হরিণা ঘাট নৌ-পুলিশ সবার চেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করেছে। মার্চ-এপ্রিল দু’মাস জাটকা রক্ষায় নদীতে অভয়াশ্রম ঘোষণা করার পর থেকে চৌকশ পুলিশ কর্মকর্তা হরিণা ঘাট নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোহাম্মদ নাসিম হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ১ কোটি ৭০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল, ২ শতাধিক জেলেকে আটক করে ২৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া অভিযানে ৭ হাজার কেজি জাটকা ও ৪০টি জেলে নৌকা জব্দ করা হয়।
জাটকা অভিযান ছাড়াও নৌ পুলিশ মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে বাগদা চিংড়ির পোনা ধরে পাচার করার সময় ২ লাখ ৪০ হাজার পিস বাগদা চিংড়িসহ একজনকে আটক করেছে।
চাঁদপুরের ইতিহাসে হরিণা ঘাট নৌ-পুলিশ সবচেয়ে বেশি অভিযান চালিয়ে জেলে কারেন্ট জাল ও নৌকা জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।
ইনচার্জ নাসিম হোসেনের সফলতায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন নৌ-পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান।
গত শনিবার বিকেলে নৌ-পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান হরিণাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ি পরিদর্শন শেষে নৌ-পুলিশের সাথে আলোচনা করে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
জাটকা অভিযানের শেষ দিন সর্বশেষ শুক্রবার ভোরে মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে ২০ জেলে পাঁচটি জেলে নৌকাসহ ১০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করে। এ ঘটনায় নৌ-পুলিশ মৎস্য আইনে ৫টি মামলা দায়ের করে। জেলেদের আটক করার পর তাদের ছাড়িয়ে নিতে নৌ পুলিশকে হুমকি দেওয়ায় মাছ পাচারকারী ইউসুফ বন্দুকশীর বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার আসামি ইউসুফ বন্দুকশী পলাতক থাকায় তাকে আটক করতে নৌ পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে হরিণা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নাসিম হোসেন জানান, পুলিশ সুপার কামরুজ্জামানের নির্দেশে জাটকা রক্ষায় অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ৭০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, ২ শতাধিক জেলেকে আটক করে ২৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযানে ৭ হাজার কেজি জাটকা ও ৪০টি জেলে নৌকা জব্দ করা হয়। কারেন্ট জাল ১২ মাস নিষিদ্ধ তাই জাটকা ও কারেন্ট জালের উপর নৌ পুলিশের অভিযান সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
মৎস্য আইনে যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এদের মধ্যে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাটকা পাচারকারী ও তাদের মদদদাতাদের কোন অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না।
৪ মে, ২০২১।
