চরম দুর্ভোগে নাকাল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ
সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচরে ট্রলি ও পিকআপের চাপে সড়কগুলোতে ভূতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। দূষিত ধোঁয়ার কারণে চরম দুর্ভোগে নাকাল হয়ে পড়েছে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ সাধারণ মানুষ। পুরাতন ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন মেঘনার পাড়ে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু ইট, পাথর, বালুর ছোট বড় ব্যবসা। এখানে প্রতিনিয়ত এ বালু, পাথর ও ইট বহনকারী পাহাড় ট্রলি ও পিকআপগুলো দ্রুত গতিতে চলাচলের ফলে ধুলোবালিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলাকাবাসীসহ পথচারীদের। দ্রুতগতির গাড়ির দূষিত ধোঁয়ায় পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি এবং বাতাশে উড়ছে ধুলা বালি। পথচারীসহ স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পথ চলতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের। যার ফলে সড়কগুলোতে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া রাস্তার পার্শ্ববর্তী বসতঘরগুলোতে বালুর আস্তর পড়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে নাকাল হয়ে পড়েছে স্থানীয় লোকজন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার আলগী দুর্গাপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের নদীর পাড় সংলগ্ন ডিগ্রি কলেজ থেকে কালা চকিদার মোড় পর্যন্ত এ সড়কটির আশেপাশে ও মেঘনা নদীর পাড়ে অসংখ্য বালু, ইট, পাথরের মহল তৈরি হয়েছে। এ ইট, পাথর ও বালু বহনকারী ট্রাক, পিকআপগুলো চলাচলের একমাত্র সড়ক তেলির মোড় থেকে ডিগ্রি কলেজ সড়কটি। এ সড়কটিতে একের পর এক ইট, বালু ভর্তি ট্রাক পিকআপ যাতায়াত করতে দেখা যায়। গাড়িগুলো যাওয়ার পর রাস্তাগুলোতে ধূলোবালুতে ভূতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উড়ন্ত বালুগুলো স্থির না হতেই আরেকটি গাড়ি এসে আবারো ধূলাবালুগুলো উড়িয়ে দেয়। এ পথে যাওয়া আসা লোকজন পরনের কাপড় দিয়ে চোখ মুখ ঢেকেও রক্ষা পায়নি ধূলোবালু থেকে। নদীর পাড় থেকে একজন পথচারী কালাচকিদার মোড় আসার পর ঐ ব্যক্তি নিজেকেও নিজে চিনতে পারে না। তার মাথার চুলগুলোসহ পুরো শরীর বালুতে ঢেকে গিয়ে সাদা হয়ে যায়। রাস্তার পাশে থাকা ঘরবাড়িগুলোর অবস্থা আরও ভয়ানক।
এ এলাকার মানুষগুলো যেন ধুলোবালুর সাথে যুদ্ধ করে কাটাচ্ছে তাদের জীবন। কার কাছে কোন দপ্তরে অভিযোগ দিলে এ সমস্যার সমাধান হবে তাও জানা নেই তাদের। তবে দিনের বেলা এ গাড়িগুলো বন্ধ রেখে রাতে যাতায়াত করলে লোকজনের সুবিধা হতো বলে তারা জানান।
স্থানীয় পথচারী নাছির উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়ীরা তাদের সুবিধার্থে নদীর পাড় এ ব্যবসাগুলো করে আসছে। মানুষজন নিজেদের প্রয়োজনেই ইট, বালু, পাথর ক্রয় করছে। কিন্তু তাদের সুবিধার কথা চিন্তা করলেই তো হবে না। ব্যবসায়ীর সুবিধার জন্য অন্য লোক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কিনা সেটাও দেখা দরকার। ব্যবসায়ীরা সেটা দেখছে না। তারা মাল বিক্রি করছে ক্রেতা ক্রয় করছে, ট্রাকের কর্মীরা ট্রাকে করে মাল নিয়ে দিয়ে আসছে। এখানেই শেষ নয়, এই মালগুলো নেয়া আসার মাঝে পথচারী ও ঘরবাড়ির লোকজন ধুলোবালিতে কষ্ট পাচ্ছে। এ ধুলোবালি থেকে পথচারী ও এলাকাবাসীকে ব্যবসায়ীরা এবং ট্রাকের ড্রাইভার রক্ষা করতে পারে। ব্যবসায়ীরা সকলে মিলে যদি একজন লোক রেখে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানি দিয়ে রাস্তাটি ভিজিয়ে রাখে তাহলে ধুলোবালিতে লোকজনের কোনো সমস্যা হতো না।
এছাড়া যে ট্রাকে করে বালু নেয়া হয়, সেই ট্রাকে বালুর উপরে কাপড় দিয়ে ঢেকে নিলে বালুগুলো উড়ত না। ধূলোবালু থাকত না। প্রতিটি ব্যবসায়ী মিলে যদি চেষ্টা করে তাহলে রাস্তায় পানি দিয়ে রাখলে এলাকাবাসী ধূলোবালি থেকে রক্ষা পেতে পারে।
স্থানীয় মুদি দোকানদার মোস্তফা গাজী বলেন, বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রায় অর্ধ সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী এ রাস্তায় চলাচল করে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ রাস্তায় হাঁটাচলা করেন সাধারণ মানুষও। এ রাস্তার ব্যবসায়ীরাও নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ধূলাবালির কারণে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
নীলকমল ওছমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বিকল্প রাস্তা না থাকায় ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় অর্ধ সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী স্কুলে যাওয়া-আসার এ রাস্তাটিকে-ই ব্যবহার করতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশু থেকে বয়োবৃদ্ধ সাধারণ মানুষ এ রাস্তায় চলাচল করে। গাড়ি চালকরাও মাত্রাতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে আতঙ্কে থাকে শিক্ষার্থীরা। তাই এসব শিক্ষার্থীদের স্বার্থে জনবহুল এ রাস্তায় গাড়ি চলাচলের নীতিমালা বেঁধে দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
হাইমচর কিন্ডারগার্টেন স্কুলের অভিভাবক মাহমুদুল হাসান জানান, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা স্কুলে যাতায়াতে অনীহা প্রকাশ করছে। তাই গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।
আলগী দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সরদার আব্দুল জলিল মাস্টার বলেন, হাইমচর ডিগ্রি কলেজ, একটি দাখিল মাদরাসা, একটি মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ প্রায় ১০ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এ রাস্তাটি ব্যবহার করে। ইতোমধ্যে মারাত্মক এক্সিডেন্ট করে অনেকেরই হাত-পা ভেঙেছে। তাই উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এ ইটাবালির গাড়িগুলো রাতে চলাচলের ব্যবস্থা করার নীতিমালা প্রণয়ন করলে শিক্ষার্থীরা নির্ভয়ে নিশ্চিন্তে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে।
০১ মার্চ, ২০২৩।