হাইমচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত

হাইমচর ব্যুরো
হাইমচরে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে আহত করেছে এক শিক্ষক। উপজেলার কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ সংলগ্ন মুফতী মোশাররফ হোসাইন কারিমী প্রতিষ্ঠিত অনুমোদনহীন প্রতিষ্ঠান তাহফিজুল উম্মাহ ইসলামিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগের ছাত্রকে আহত করা হয়। ঘটনাটি ঘটিয়েছে মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ আবুল বাশার।
গত ২৯ মে সকালে মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ইসমাইল সাত সবক না দিতে না পারায় প্রিন্সিপাল মোশাররফের নির্দেশে তার উপর চালানো হয় এ অমানবিক নির্যাতন। এতে হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ ও রক্ত জমাট বেধে যায়। আহতাবস্থায় শিশু ইসমাইল বাসায় গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলেন তার মা।
জানা যায়, কোরআনে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্নে শিশু ইসমাইলকে বাড়ির পাশে তাহফিজুল উম্মাহ ইসলামিয়া মাদরাসায় ভর্তি করান মা। সে সময়ই মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষকদের ইসমাইলের শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি জানান তিনি। তারপরও তুচ্ছ বিষয় কিংবা পড়া না পারার অজুহাতে অমানবিক নির্যাতন চালায় শিশু ইসমাইলের উপর। এ নির্যাতনে বিরক্ত হয়ে মা তার ছেলের মাদরাসায় যাওয়া বন্ধ করে দেন। পরে গত ২ রমজান মাদরাসার পরিচালক মাওলানা মোশাররফ হোসাইন নিজেদের ভুল স্বীকার করে অভিভাবকদের বুঝিয়ে পুনরায় ইসমাইলকে মাদরাসায় পাঠাতে অনুরোধ করেন। এরপর থেকে নিয়মিত ক্লাস করে সে।
গত ২৯ মে সকালে সাত সবক দিতে না পারায় শিশু ইসমাইলের হাত-পা বেঁধে দুইজন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে চেপে ধরে বেত্রাঘাত করে আহত করা হয়।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক হাফেজ আবুল বাশার একজন উগ্র স্বভাবের মোবাইলাশক্ত শিক্ষক। সে প্রায়ই ছাত্রদের বেধড়ক মারধর করে। তার উপর পরিচালক মোশাররফ হোসাইনের অনুমতি পেয়ে ইসমাইলকে বেত্রাঘাত করে আহত করে শিক্ষক আবুল বাশার।
অভিভাবকের অভিযোগ ইসমাইল হোসেন ছোট মানুষ। তাকে কোরআনের হাফেজ হওয়ার জন্য তাহফিজুল উম্মাহ ইসলামিয়া মাদরাসায় দিয়েছি। মাঝেমধ্যেই তারা আমার নাতিকে বেধড়ক মারধর করে।
গত রোববার সকালে ইসমাইলের দুই হাত বেঁধে দুই ছাত্রের মাধ্যমে হাত ও পা চেপে ধরে শিক্ষক আবুল বাশার পায়ের তালুতে বেত্রাঘাত করেছে। যার ফলে পায়ের তালুসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম হয়ে যায়। শিক্ষকের নির্যাতনে পড়াশোনার প্রতি বিতৃষ্ণা চলে এসেছে শিশু ইসমাইলের। তাই শাসনের নামে শিক্ষার্থীদের প্রতি অমানবিক নির্যাতন বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
হাফেজ আবুল বাশার বলেন, ইসমাইল হোসেন বেয়াদব প্রকৃতির ছেলে। পড়াশোনায় মনোযোগী করতে ভয় দেখানোর জন্য বেতের লাঠি দিয়ে ৩টি আঘাত করেছি। এতে তার শরীরে ব্যথা পায়নি বা দাগও নেই। আমাদের উদ্দেশ্য তাদের মানুষ করা। সেই লক্ষ্যে আমাদের শাসন করতেই হবে।
মাদরাসার পরিচালক মুফতি মোশাররফ হোসাইন বলেন, আমরা শিশুদের কোরআন শিক্ষা দেই। এতে যারা একটু বেপরোয়া হয়ে ওঠে তাদের কিছুটা শাসন করা হয়। ইসমাইলের অভিভাবক যে প্রশ্ন তুলেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমার সাথে হিংসা পোষণ করে ও হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য তারা ষড়যন্ত্রমূলক কাজে লিপ্ত হয়েছে।

০১ জুন, ২০২২।