হাইমচরে রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ন্ত্রণে নির্বাচন অফিসার

চরভৈরবী ইউপি নির্বাচনে আ.লীগ নেতাদের নামে সাংবাদিক কার্ড

হাইমচর ব্যুরো
হাইমচর উপজেলা নির্বাচন অফিসার শাহজান মামুন উপজেলা আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে থেকে কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে উপজেলার আওয়ামী লীগের নেতাদের চামচামিসহ অর্থের বিনিময়ে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ কার্ড রাজনৈতিক নেতাদের দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। যা এবার চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে হাতে-কলমে প্রমাণিত হয়েছে।
জানা যায়, গত ২৮ নভেম্বর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে উপজেলার প্রকৃত সাংবাদিকদের পর্যাবেক্ষণ কার্ড না দিয়ে তিনি আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হুমায়ুন প্রধানীয়া ও সহ-সভাপতি এমএ বাশারকে ফেসবুক সাংবাদিক পরিচয়ে কার্ড দিয়েছেন নির্বাচন অফিসার শাহজান মামুন। সেই কার্ড ফেসবুকে ছাড়ার পর থেকেই উপজেলাজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্নবিদ্ধ হয় ইউপি নির্বাচন। এছাড়া চেয়ারম্যান অথবা মেম্বার প্রার্থীরা মনোনয়ন ফরম জমা দিলেও তাকে টাকা (সম্মানি) দিতে হয়। তার এ অনিয়ম উপজেলায় জায়েজ হয় নেতাদের চামচামি করার ফলে। নেতাদের সাপোর্ট থাকায় নিজেকে অনিয়মের আখরা হিসেবে গড়ে তুলেছেন তিনি।
হাইমচর উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাহেদ হোসেন দিপু জানান, চরভৈরবী ইউপি নির্বাচনে প্রেসক্লাবের পেডে ১১ জন সাংবাদিকের জন্য পর্যবেক্ষণ কার্ডের আবেদন করি। নির্বাচন অফিসার কার্ড দেই, দিচ্ছি করে রাতে মাত্র ৪টি কার্ড আমাদের দেন। আমরা সভাপতির মাধ্যম তার এ কার্ড ফেরত পাঠালে তিনি আরও ৩টি কার্ড দিয়ে বলেন, জেলা থেকে ২০টি কার্ড দিয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান ২০টি কার্ড চেয়েছেন। আমার কাছে আর কোন কার্ড নেই। তারা সব কার্ড নিয়ে গেছেন। রাতে ফেসবুকে দেখতে পাই উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সহ-সভাপতির কার্ড নিয়ে সমালোচনা চলছে। তখন জানতে পারি নির্বাচন অফিসার তার খাতির রক্ষায় আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মীদের ফেসবুক সাংবাদিক পরিচয়ে পর্যবেক্ষণ কার্ড দিয়েছেন। এটা জানার পরে হাইমচরের মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. শাহজান মামুনের কাছে কতটি কার্ড দিয়েছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতিসহ রাজনৈতিক নেতাদের কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

৩০ নভেম্বর, ২০২২।