স্টাফ রিপোর্টার
মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর ২২ দিন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতা চাঁদপুরের ষাটনল থেকে চরআলেকজান্ডার পর্যন্ত ১শ’ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচারণা ও হাইমচরে আটক ৩ জেলেকে অর্থদণ্ড দেয়া হয়েছে।
আশ্বিনের ভরা পূর্ণিমায় সমুদ্র থেকে মা ইলিশ ডিম ছাড়ার জন্য মিঠা পানিতে ছুটে আসতে শুরু করে। আর ইলিশ চাঁদপুরের পদ্মা মেঘনাকে ডিম পাড়ার উৎকৃষ্ট স্থান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে। ফলে এই সময় ৯ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত চাঁদপুরের নদী সীমানায় সব প্রকার জাল ফেলা নিষিদ্ধ।
গতকাল বুধবার ভোর ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকীসহ টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন থেকে থেকে শুরু করে কাটাখালী ও মাঝেরচর হয়ে পুরো পদ্মা নদীতে অভিযান করেন।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জামান জানান, আমরা ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন হয়ে পদ্মা নদীতে অভিযান চালাই। আমরা পরিলক্ষিত করেছি অভিযানের প্রথম দিনে তেমন কোনো জেলে পদ্মা-মেঘনায় নামেনি। আমরা রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নে জেলেদের নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণা করেছি। আমরা জেলেদের সচেতন করার চেষ্টা করেছি। এ সময় শত-শত জেলে আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। জেলেরা তাদের নৌকা জাল ডাঙায় তুলে রেখেছে কোথাও-কোথাও। তবে অসাধু জেলেরা যে কোনো মুহূর্তে নদীতে নেমে মা ইলিশ নিধনে মেতে উঠতে পারে। এ ২২ দিন মাছ না ধরার জন্য নিবন্ধিত জেলেদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আমরা চাই ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে। চাঁদপুরের নদীতে ইলিশ উৎপাদন হয়ে বিশ্বে চাঁদপুরের নাম ছড়িয়ে পড়বে।
অন্যদিকে হাজীগঞ্জ বাজারে মাছ বিক্রিকালে ১ জন ও হাইমচর উপজেলায় মেঘনা নদীতে অভিযান চালিয়ে অসৎ উপায়ে মা ইলিশ নিধনকালে ২ জেলেকে আটক করা হয়েছে। আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসি বেগম ও হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জিয়াউল ইসলাম চৌধুরী।
জেলা মৎস্য অফিস জানায়, ৯ অক্টোবর প্রথম প্রহর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চাঁদপুর অভয়াশ্রম এলাকায় ৬টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয় ৩টি। এসব অভিযানে ২টি মাছঘাট, ২০টি আড়ৎ ও ১৭টি বাজার পরিদর্শন করা হয়। এ সময় ১৬ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাইমচরে ইলিশ মাছসহ আটক মাছের ট্রলারে থাকা ভোলা জেলার দৌলত খাঁ গ্রামের আব্দুল বারেকের ছেলে মো. মোবারক (৪০) কে ৫ হাজার ও একই এলাকার মৃত নুরুল হক মোল্লার ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (৫৫) কে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেয়া হয়। এছাড়া অপর ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজীগঞ্জ উপজেলার মারামোড়া গ্রামের মো. মোবারকের ছেলে মো. হুমায়ুন (৩৪) কে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন।
১০ অক্টোবর, ২০১৯।