হাইমচরে দেদারছে নিধন হচ্ছে মা ইলিশ

নীলকমল নৌ-ফাঁড়ি আইসির সহযোগিতায়

সাহেদ হোসেন দিপু
হাইমচরে নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোহাম্মদ মাসুমের সহযোগিতায় নিধন হচ্ছে জাতীয় সম্পদ মা ইলিশ। প্রতি নৌকা দৈনিক ৩ হাজার টাকার বিনিময়ে মা ইলিশ নিধনে জেলেদের সহযোগিতা করে আসছেন এমন অভিযোগ উঠেছে নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মোহাম্মদ মাসুমের বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, যেসব জেলেরা তার তালিকাভুক্ত নয় তাদের জাল জব্দ করে ৩ ভাগের একভাগ জাল আগুনে পুড়িয়ে বাকি ২ ভাগ জাল বিক্রি করা এবং ইলিশ মাছের চালানসহ স্পীড বোট আটকের পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তা ছেড়ে দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে ঐ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
স্পীড বোট আটকের ব্যাপারে নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির নৌকার মাঝি জামালের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্পীড বোট আটক করে ১ ঘণ্টা পরে তা আবার আইসি ছেড়ে দেন। কি কারণে বা কেন ছেড়ে দিয়েছেন- তা আমার জানা নাই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির স্টাফ জানান, প্রতিদিনের অভিযানে জব্দকৃত জাল কিছুটা আগুনে পুড়িয়ে বাকিটা বিক্রি করে দেয় আইসি। মাছের চালান ধরে টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়ারও কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, মাছসহ স্পীড বোট আটক করে ৯০ হাজার টাকার বিনিময়ে তা আবার ছেড়ে দেয়া হয়।
গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী বেগমের নির্দেশে হাইমচর কোস্টগার্ডের সিনিয়র চীফ পেটি অফিসার দীন ইসলামের নেতৃত্বে হাইমচরের মেঘনায় অভিযান পরিচালনা করে (নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি) চরভৈরবী এলাকার মেঘনায় মাছ নিধনকালে ৭ জেলেকে আটক করা হয়।
আটক চরভৈরবী ইউনিয়নের সুরুজ বেপারীর ছেলে জাকির বেপারী সাংবাদিকদের কাছে বলেন, আমরা নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মাসুমকে প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা দিয়ে রাতের বেলা মাছ ধরার অনুমতি নিয়ে মাছ ধরি। আমাদের চরভৈরবী এলাকার ১৬টি নৌকা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির তালিকাভুক্ত। সবাই তাদের টাকা দিয়ে নদীতে মাছ ধরার অনুমতি পেয়েছে। যারা টাকা দেয় না তাদের ধরে তাদের জাল আবার তাদের কাছে বিক্রি করে। যার কারণে আমরা স্থানীয় মৎস্য আড়ৎদার জসীম চৌকদার এবং দেলু বকাউলের মাধ্যমে ১৫শ’ টাকা দিয়ে ভর্তি হয়ে দৈনিক ৩ হাজার টাকা করে আইসিকে দিয়ে আসছি।
স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন প্রধানীয়া জানান, নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাশিয়ার সুরুজের মাধ্যমে জেলেদের কাছ থেকে টাকার মাধ্যমে নদীতে মাছ শিকার করতে সহযোগিতা করে নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি। ক্যাশিয়ার সুরুজের মোবাইল ট্র্যাকিং করলে সব তথ্য বের হয়ে আসবে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় মৎস্য প্রতিনিধি মানিক দেওয়ান জানান, চরভৈরবীতে রাতের বেলা মহোৎসবের সাথে নিধন হচ্ছে মা ইলিশ। নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির চোখের সামনে জেলেরা মাছ শিকার করছে আর নৌ-পুলিশ নীরব ভূমিকায় থাকছে- এটা খুবই দুঃখজনক। নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহযোগিতা না থাকলে নদীতে এভাবে মাছ নিধন হতে পারে না। হাইমচর কোস্টগার্ডের অভিযানে জেলে আটক হলেও নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এখন পর্যন্ত একজন জেলেও আটক করতে পারেনি। এতেই প্রমাণিত হয় তিনি জেলেদের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, অভিযানের শুরুতে মৎস্যজীবীরা নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছে। নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির কাছ থেকে কোন সহযোগিতা পাই না। আমি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি। নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি নিজ ইচ্ছায় অভিযান পরিচালনা করে, তারা আমাদের সাথে কোন সমন্বয় করে না। তাদের সহযোগিতা চাইলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে কেটে যায়। বিশেষ মুহূর্তেও তাদের সহযোগিতা চাইলে পাই না।
এ ব্যাপারে নীলকমল নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি মাসুম বলেন, আমার কারণে চরভৈরবীর জেলেরা মাছ শিকার করতে পারছে না। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলেছেন। আমি প্রতিদিনই নদীতে অভিযান পরিচালনা করছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বিরুদ্ধে তারা ষড়যন্ত্র করছে।