যে কোন সময় কালভার্টটি ভেঙ্গে দুর্ঘটনার আশংকা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর কৃষি মাঠের মাঝপথ দিয়ে যাওয়া এলজিইডি সড়কে জগন্নাথপুর রাজনারায়ণ খালের উপর কালভার্টের মাঝে ঢালাই ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে এই ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্ট দিয়ে চলাচলরত যানবাহন ও জনচলাচল ব্যাহত হচ্ছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি এমন অবস্থায় পড়ে থাকায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর চৌরাস্তা থেকে এলজিইডির এই সড়কটি জগন্নাথপুর বাজার ও বাজার থেকে জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয় হয়ে কাকৈরতলা জনতা কলেজ ও কাকৈরতলা আলিম মাদরাসা এবং জগন্নাথপুর বাজার থেকে ঈদগাহ পর্যন্ত। যা ওয়ারুক স্টেশন-জগন্নাথপুর-হরিপুর সড়কের সংযোগ হয়েছে। যে পথ দিয়ে পাশর্^বর্তী শাহরাস্তি উপজেলায় যাওয়া যায়।
সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মাইক্রোবাস, পিকআপ ভ্যান, সিএনজিচালিত স্কুটার, রিকশা, অটোবাইক, মোটরসাইকেল, মিশুক, সাইকেল সহ ছোট-বড় বিভিন্ন যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে। এছাড়া পাঁয়ে হেটে জগন্নাথপুর হাজী এরশাদ মিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, কাকৈরতলা জনতা কলেজ ও কাকৈরতলা আলিম মাদরাসার শিক্ষার্থীরাসহ প্রতিদিন কয়েক শতাধিক লোকজন চলাচল ও প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহণ করে থাকেন।
অথচ এই সড়কের জগন্নাথপুর গ্রামের কৃষি মাঠের মাঝ পথে জগন্নাথপুর রাজনারায়ণ খালের উপর নির্মিত কালভার্টের মাঝে ঢালাই ভেঙে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে কালভার্টটি এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় যান ও জনচলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা। এমন অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ কালভার্টটি দিয়ে চলাচলরত শিক্ষার্থীসহ জনসাধারণ যেকোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনায় সম্মুখীন হতে পারে।
এ বিষয়ে স্থানীয় জেএইচ টিপু জানান, কালভার্টটি দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে পড়ে থাকার কারণে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। এতে জান ও মালের ক্ষতি হতে পারে। তাই দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ এই কালভার্টটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী নুরুর রহমান বেলাল জানান, জগন্নাথপুর রাজনারায়ণ খালের উপর ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় যে কোন সময় দুর্ঘটনার আশংকা রয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ারকে (প্রকৌশলী) জানানো হয়েছে। আশা করি দ্রুত ব্রিজ নির্মাণের ব্যবস্থা হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী রেজওয়ানুর রহমান জানান, পুরোনো হওয়ায় কালভার্টটির স্থায়িত্ব কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে। কালভার্টটি নতুন করে নির্মাণ করার জন্য রুরুাল সাপোর্ট ব্রিজ প্রজেক্টের তালিকায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুল ইসলাম জানান, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।
০৮ জুন, ২০২২।
