হাজীগঞ্জের পিরোজপুরে সম্পত্তিগত বিরোধে দোকানপাট ভাঙচুর

যে কোন সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশংকা স্থানীয়দের

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে আপন ও সৎ ভাই-বোনদের সম্পত্তিগত বিরোধের জেরে দোকানপাট ভাঙচুর ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের পিরোজপুর বাজারে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির ব্যবসায়ী মালিক এবং ভাড়াটিয়া ও ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিক হলেন- ওই ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মো. শাহজালাল ও তপাদার বাড়ির বাচ্চু মিয়ার ছেলে মো. আব্দুল বারেক এবং ভাড়াটিয়া ও পিরোজপুর বাজারের ফার্নিচার ব্যবসায়ী মো. ইসমাঈল হোসেন, ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম।
এ বিষয়ে ভূমির মালিক শাহজালাল জানান, তার বাবা মৃত জাফর আলীর ৩ স্ত্রী ছিলো। তারা হলেন- তার মা কইতরের নেছা (বড়), সৎ মা সুফিয়া খাতুন (মেঝ) ও জাহানার বেগম (ছোট)। তার বাবার নামে অন্যান্য ভূমির পাশাপাশি পিরোজপুর বাজারে সাবেক ১৫৩ হাল ৫২ পিরোজপুর মৌজার সাবেক ৭৬১ ও ৭৬২ হাল ২০৫৮ ও ২০৫৯ দাগে ৫৪ শতাংশ ভূমি রয়েছে।
উল্লেখিত ভূমি ১৯৮৫ সালে তার বাবা তার মা কইতরের নেছা ও সৎ মা সুফিয়া খাতুনের নামে দলিলপত্র করে দেন। এর মধ্যে এই ৫৪ শতাংশ ভূমির অন্দরে ১০ শতাংশ চাচা ওহাব আলী রেকর্ড সূত্রে মালিক। পরবর্তীতে তার সৎ বোন রাবেয়া ও নাসিমা বেগমের (সুফিয়া খাতুনের মেয়ে) কাছ থেকে ১৯৮৯ সালের দানপত্রের মাধ্যমে ১৩ শতাংশ ভূমির মালিক তিনি ও তার ভাই শাহ্ সুলতান।
এরপর একই দাগে মো. শাহজালাল ২০০৪ সালে তার নিজ বোন ফরিদা ও মাহফুজার কাছ ক্রয়সূত্রে পৌনে ৪ শতাংশসহ পৈত্রিক সূত্রে আরো সম্পত্তির ভূমির মালিক ও দখলদার তিনি। পরবর্তীতে এই পৌনে চার শতাংশ ভূমি থেকে তিনি একই গ্রামের তপাদার বাড়ির আব্দুল বারেকের কাছে ২ শতাংশ ভূমি বিক্রি করেন।
শাহজালাল বলেন, আমার মা কইতরের নেছা ও সৎ মা সুফিয়া খাতুনকে ১৯৮৫ সালে সম্পত্তি লিখে দেয়ার দুই/তিন বছর পর আমার বাবা জাহানারা বেগমকে বিয়ে (৩য় স্ত্রী) করেন। এরপর ১৯৯১ সালে একই দাগে আমার বাবা অপর সৎ মা জাহানারা বেগমকে সাড়ে চল্লিশ শতাংশ সম্পত্তি ওসিয়ত করে যান।
অথচ উল্লেখিত দাগের সম্পত্তি ১৯৮৫ সালেই আমার মা কইতরের নেছা ও সৎ মা সুফিয়া খাতুনকে লিখে দিয়েছিলেন আমার বাবা। এতো বছর ধরে আমরা এই সম্পত্তি দখলে আছি। সম্প্রতি আমার সৎ ভাই শেখ শাহরিয়ার ও শেখ শাহপরান (জাহানারা বেগমের ছেলে) এই সম্পত্তি নিয়ে ঝামেলা শুরু করে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দোকানপাটের উপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে।
একই অভিযোগ করেন আব্দুল বারেক। তিনি বলেন, আমি শাহজালালের কাছ থেকে ২ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেছি। তারা (শাহরিয়ার ও শাহপরান) তাদের সৎ ভাই-বোনদের কাছ থেকে জায়গা বুঝে না নিয়ে আমার ক্রয়কৃত এবং ভাড়া দেয়া দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করে এবং হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে।
অপরদিকে শাহজালালের ভাড়াটিয়া তাজুল ইসলাম বলেন, তার দোকানেও হামলা করা হয়েছে এবং তাকে দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান। এরা সবাই শাহরিয়ার ও শাহপরানদের হুমকি-ধমকিতে নিরাপত্তাহীনায় ভুগছেন বলে জানান। এক প্রশ্নের জবাবে শাহজালাল বলেন, বিষয়টি ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি। আমরা আইনের আশ্রয় নিবো।
ভাঙচুর নয়, দোকান দখল করতে গিয়েছি স্বীকার করে শাহরিয়ার বলেন, আমার বাবা ১৯৯১ সালে সাড়ে চল্লিশ শতাংশ ভূমি আমার মাসহ আমাদের তিন ভাইকে ওসিয়ত করে গেছেন। যদিও বাবা সাড়ে চল্লিশ শতাংশ ভূমি আমাদের দিয়ে গেছেন, কিন্তু হিস্যা অনুযায়ী আমরা ১৭ শতাংশ পাই। তখন আমরা ছোট ছিলাম। যার কারণে আমার সৎ ভাই-বোনেরা উল্লেখিত দাগের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে আছে।
তিনি বলেন, এখন আমরা বড় হয়েছি। তাই আমাদের সম্পত্তি উদ্ধারে জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার গণ্যমান্যদের জানিয়েছি। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বেশ কয়েকবার শালিসি বৈঠক হয়েছে, কিন্তু তারা কারো কথা মানে না। তাই আমরা আমাদের সম্পত্তি দখলে নিচ্ছি। এসময় তিনি সম্পত্তি উদ্ধারে আদালতে মামলা করবেন বলে জানান।
অপরদিকে দ্বিতীয় পক্ষ সুফিয়া খাতুনের মেয়ে রেহানা জানান, আমার মায়ের নামে বাবা এই দাগে ২৭ শতাংশ ভূমি দিয়ে গেছে। আমরা ৪ বোন। ভাই না থাকার কারণে আমরাও এই সম্পত্তি দখলে ছিলাম না। ২০০৪ সালে থানায় অভিযোগ দিয়ে এবং সালিশী বৈঠকের মাধ্যমে আমরা সাড়ে ১০ শতাংশ দখল পেয়েছি। এখন আমাদের দোকানপাটগুলোও ভাঙচুর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বড় ভাইদের (কইতরের নেছার ছেলে) ও ছোট ভাইদের (জাহানার ছেলে) রেশারেশিতে আমরা আছি বিপদে। এদিকে তাদের ৩ পক্ষের সমস্যা সমাধান না হলে যে কোন সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে বলে স্থানীয় ও এলাকাবাসীর আশংকা।
২৭ আগস্ট, ২০২১।