হাজীগঞ্জের প্রার্থীদের সাথে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময়

ভোটারদের কেন্দ্রে আনার দায়িত্ব প্রার্থীর
…..জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য (মেম্বার) পদে উপ-নির্বাচনে অংশগ্রহণকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে আইন শৃঙ্খলা ও আচারণ বিধিমালা প্রতিপালন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলা ই-সেন্টারে অনুষ্ঠিত সভায় দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান।
তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা টলারেট করবো না। নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। সুতরাং প্রার্থীদের পক্ষ থেকে কোনোক্রমেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করা যাবে না। কেউ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খুঁজলে অবশ্যই তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। বিজয়ের আগে আমরা কোন প্রার্থীকে চিনি না। নির্বাচিত হলে আমরা চিনবো আপনি চেয়ারম্যান, আপনি সদস্য।
প্রার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আপনারা সবাই এক এলাকার (ইউনিয়নের) লোক। কোন প্রার্থী প্রতিহিংসামূলক আচরণ করবেন না। কারণ নির্বাচন একদিন, সম্পন্ন আজীবনের জন্য। আপনাদের (প্রার্থী) দায়িত্ব হচ্ছে, ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে আনা, আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করা আমাদের অঙ্গীকার। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, আপনাকে এগিয়ে যেতে হলে মানুষকে আপনার গ্রহণযোগ্যতা জানান দিতে হবে।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্টেট, র‌্যাব, বিজিবি ও পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবেন। নির্বাচনে কোন ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। আমরা সকলে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে চাই। এজন্য প্রার্থীসহ সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) পঙ্কজ কুমার দে বলেন, আপনারা (প্রার্থী) আচরণবিধি মেনে চললে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। বিকল্প চিন্তা করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করবো। এছাড়া কোন প্রার্থীর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাকে বা আমাদের অফিসার ইনচার্জকে জানাবেন। পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় বহিরাগতদের চিহ্নিতকরণে ব্লকরেইড দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো বক্তব্য দেন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ বলেন, এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার কোন আশংকা দেখছি না। আপনারা সহনশীল হবেন। আশা করি আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে না। আপনাদের কাছে কোন তথ্য বা কোন প্রার্থীর সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে আমাকে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা নিবো।
বক্তব্যের আগে নির্বাচনের বিভিন্ন দিক ও আচরণবিধি তুলে ধরেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস শীল। পরে প্রার্থীদের মধ্যে অভিযোগ, প্রশ্ন ও মতামত উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন রাজারগাঁও ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে মোটরসাইকেল প্রার্থী মো. শাহাজাহান মিয়া, ঢোল প্রতীকের প্রার্থী মো. মনির হোসেন পাটওয়ারী, চশমা প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিকুল ইসলাম, ঘোড়া প্রতীকের প্রার্থী হাজী মো. আবুল কালাম ও টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল কালাম।
এসময় গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে আপেল প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মীর হোসেন, মোরগ প্রতীকের প্রার্থী মো. খোরশেদ আলম। সভায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার নিগার সুলাতান, নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফারুক হোছাইন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌ. মো. জাকির হোসেন ও আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রোকেয়া আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
আরো উপস্থিত ছিলেন প্রার্থীদের মধ্যে রাজারগাঁও ইউপির চেয়ারম্যান পদে দুটি পাতা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তার হোসেন, টেলিফোন প্রতীকের প্রার্থী মো. আবুল কালাম, দোয়াত কলম প্রতীকের প্রার্থী মো. মফিজুর রহমান, আনারস প্রতীকের প্রার্থী মো. রফিক পাটওয়ারী, রজনীগন্ধা প্রতীকের প্রার্থী মো. সিদ্দিকুর রহমান, গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদে বৈদ্যুতিক পাখা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ সফি উল্যাহ্, ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী মো. ওহিদুল ইসলাম ও তালা প্রতীকের প্রার্থী কার্ত্তিক।

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪।