মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে আগুন লেগে একটি গোডাউনসহ চারটি দোকান-ঘর পুড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এতে করে প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে জানান দোকানীরা। শনিবার (২৫
সেপ্টেম্বর) ভোররাতে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের বেলঘর বাজারে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। তবে স্থানীয়দের ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট-সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- ওই বাজারের কিটনাশক, সার ও বীজের ব্যবসায়ী মো. মোখলেছুর রহমান, কসমেটিক্স, মোবাইল এক্সেসরিজ ও ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসায়ী মো. মোবারক হোসেন, কনফেকশনারী, কাঁচামাল ও ভ্যারাইটিজ মালামালের ব্যবসায়ী মো. আল-আমিন হোসেন এবং লোহা-স্টিল মালামালের ব্যবসায়ী সুজন কর্মকার।
খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষনিক ২ হাজার টাকা করে প্রদান করেন। এ সময় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জা দুলালসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এদিন ভোর রাতে বাজারের সফিউল্যাহ্ পাটওয়ারীর মার্কেটের আল-আমিনের কনফেকশনারী, কাঁচামাল ও ভ্যারাইটিজ মালামালের দোকানে আগুন জ্বলতে দেখে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন এবং তারা হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দেন। খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আসার আগেই মার্কেটের চারটি দোকানে আগুন ধরে যায়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। এতে করে গোডাউনসহ দোকান-ঘর, মালামাল, নগদ টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুড়ে প্রায় ২৫-৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, বর্ষা শেষ হওয়ায় তিনি গত সপ্তাহে ঋণ ও ধার-দেনা করে দোকানে প্রায় ৫ লাখ টাকার কিটনাশক, সার ও বীজ তোলেন। কিন্তু ভোররাতে আগুনে তার দোকান ও গোডাউনসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে সরকারি সহযোগিতার আবেদন জানান।
অপর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. আল-আমিন হোসেন জানান, এই দোকানের উপর তিনি ও তার পরিবার নির্ভরশীল। কিন্তু আগুনে তার দোকানের ফ্রিজ ও মালামালসহ সবকিছু পুড়ে ধ্বংস্তস্তুফে পরিণত হয়েছে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি পথে বসে গেছি। জানি না, কি করবো এবং কোথায় যাবো ?
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তাৎক্ষনিক আর্থিক সহযোগিতা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম, জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসের পরামর্শক্রমে সরকারি সহযোগিতার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১।
