
প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেলে মরেও শান্তি পাবো
হাজীগঞ্জ ব্যুরো
চিকিৎসা খরচ নয়, প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চান মৃত্যু পথযাত্রী আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা সন্তোষ চক্রবর্তী। তিনি হাজীগঞ্জ পৌরসভাধনী বলাখাল গ্রামের বড় ঠাকুর বাড়ির বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন দুরারোগ্য ব্যাধী লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত। প্রতি মাসে তার চিকিৎসায় প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এ পর্যন্ত তার চিকিৎসা বাবদ প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে তিনি ভারতে নিউ দিল্লী হাসপাতালে চিকিৎসার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
সন্তোষ চক্রবর্তী ৪ সন্তানের জনক। তিনি ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দলের দুঃসময়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ও দপ্তর সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। কথা হয় তার সাথে। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘদিন বিছানায় শুয়ে আছি। কেউ এসে খোঁজ-খবর নেয়নি, মরে আছি না বেঁচে আছি। আমি এখন মৃত্যু পথযাত্রী। মরার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে দেখা করতে চাই। তাহলে মরেও শান্তি পাবো।
তার ছেলে রাজিব চক্রবর্তী জানায়, বাবা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। গত কয়েক বছর যাবৎ তিনি রোগাক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী এবং মুত্যু পথযাত্রী। পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন ছাড়া কোন নেতা বা কর্মী বাবাকে একনজর দেখার জন্য আসেনি। অথচ বাবার হাত ধরে কোন কর্মী আজ নেতা হয়েছেন।
তিনি বলেন, বাবা যৌবনকালে তার পরিবার-সংসার বাদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাজনীতি করেছেন। তিনি স্বৈরাচারী বিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম করে অনেক নির্যাতন সহ্য করেছেন। বিনিময়ে আজ তিনি অবহেলিত। দলের সুদিনেও বাবার পাশে কেউ নেই।
রাজিব চক্রবর্তী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, চিকিৎসা খরচ নয়, বাবার শেষ ইচ্ছা, মৃত্যুর আগে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান তিনি। এতে তিনি মরেও শান্তি পাবেন। তাই তার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্য সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন জানান।
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯।