হাজীগঞ্জের লাওকোরা সপ্রাবির পরিত্যক্ত লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রির অভিযোগ!

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জের হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের লাওকোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রি অভিযোগে উঠেছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের মাঝে পরস্পর বিরোধী বক্তব্যসহ স্থানীয় ও এলাকাবাসীর মাঝে আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের কোন একদিন বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কিছু লোহা ও এঙ্গেল বিক্রির ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, গোপনে লোহা ও এঙ্গেল বিক্রির অভিযোগ আনেন বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের পিটিআই কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মজুমদার। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ৯ জুন (বৃহস্পতিবার) সকালে প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষে একটি বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পরিচালনা পর্ষদ, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও শিক্ষকসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তিনি বিদ্যালয়ের দপ্তরি আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি করেন।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদ্যালয়ে থাকা পরিত্যক্ত লোহা ও এঙ্গেল চুরি বা গোপনে দপ্তরি কর্তৃক বিক্রি হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রধান শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু ঘটনার দুই সপ্তাহ পার হলেও এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি বলে জানান অভিযোগকারী মিজানুর রহমান মজুমদার। এদিকে বৈঠকে দপ্তরি আকতার হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগটি আনা হলে, তিনি উত্তেজিত হয়ে উচ্চ্যবাচ্য কথা বলেন।
অপরদিকে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের একপক্ষ গোপনে লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রির অভিযোগ এবং অপরপক্ষ গোপনে বিক্রি বা চুরি হয়নি বলে বক্তব্য প্রদান করায় স্থানীয় ও এলাকাবাসীর মাঝে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। আবার স্থানীয় ও এলাকাবাসীর মধ্যে কেউ বলছেন গোপনে লোহা ও এঙ্গেল বিক্রি হয়েছে, আবার কেউ বলছেন অভিযোগটি মিথ্যা। তবে এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে দপ্তরি মো. আকতার হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে শত্রুতাবশত হয়ে কিছু মানুষ মিথ্যা অপবাদ রটাচ্ছেন। বৈঠকে উচ্চ্যবাচ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, নিরাপদ হওয়া সত্ত্বেও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। যার ফলে আমি ওখানে (বৈঠক) কিছু কথা বলেছি।
সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন জানান, পরিত্যক্ত লোহা ও এঙ্গেল চুরিও হয়নি এবং বিক্রিও হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাক আছে। এসময় তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে ও নতুন ভবনের ছাদে পরিত্যক্ত হাই ও লো বেঞ্চের এঙ্গেল এবং সিঁড়ির নিচে কিছু লোহার রড রয়েছে। তবে বিদ্যালয়ে কি পরিমাণ লোহা ও এঙ্গেল ছিল বা আছে, তা তিনি বলতে পারেনি।
তিনি আরো বলেন, পরিত্যক্ত ভবনে রাখা কিছু বেঞ্চ ব্যবহার উপযোগী করা যাবে। তাই ওই কক্ষ থেকে অন্য ভবনের শ্রেণি কক্ষে রাখা হয়েছে। যার ফলে ওই কক্ষটি অনেকটা ফাঁকা হয়ে গেছে। তাই অনেকের ধারণা, কিছু লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রি করা হয়েছে। দপ্তরি কর্তৃক উচ্চ্যবাচ্যের বিষয়ে তিনি বলেন, বৈঠকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলে, সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। পরে সে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছে।
পিটিআই কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমান মজুমদারের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত। কার কাছে বা কার মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে, তার মধ্যে একজনের নাম জানতে পেরেছি, অপর একজনের নাম জানার চেষ্টা করছি। এ সময় তিনি বলেন, লোহা ও এঙ্গেল গোপনে বিক্রির বিষয়টি প্রমাণ হবে।
পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি আশিষ কুমার দেবনাথ বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে থাকা পরিত্যক্ত এঙ্গেল ও লোহার রড চুরিও হয়নি, বিক্রিও হয়নি।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্লাস্টার কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহজাহান জানান, বিষয়টি এইমাত্র আপনার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ চৌধুরী জানান, সরকারি মালামাল গোপনে বিক্রি বা আত্মসাতের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২২ জুন, ২০২২।