হাজীগঞ্জে আগুনে দুই বসতঘর পুড়ে ছাই

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে সংঘটিত অগ্নিকান্ডে দুইটি বসতঘর ও মালামাল পুড়ে ভষ্মীভূত হয়েছে। সোমবার (১৬ মে) দুপুরে হাজীগঞ্জ পৌরসভার মকিমাবাদ এলাকার মান্নান কোম্পানির নতুন মিয়া বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
আগুনে দুইটি বসতঘর, ঘরে থাকা স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, আসবাবপত্র ও তৈজসপত্রসহ প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয় বলে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি করেন। খবর পেয়ে পৌরসভার মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন, হাজীগঞ্জ থানার এসআই মাসুদ মুন্সী ও পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) এসআই স্বপন চন্দ্র দাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন- ওই গ্রামের মান্নান কোম্পানির নতুন মিয়া বাড়ির মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ইউছুফ আলী ও সর্দার বাড়ির মৃত মোতাহের হোসেনের ছেলে খন্দকার হারুন অর রশিদ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, এদিন দুপুরে ইউছুফ আলীর স্ত্রী ফাতেমা বেগম রান্না করার সময় হঠাৎ গ্যাস সিলিন্ডারের লিক থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে পার্শ^বর্তী খন্দকার হারুন অর রশিদ বসতঘরেও লেগে যায়।
অবস্থা বেগতিক দেখে বসতঘরের সবাই নিরাপদে গিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন দেয়। এরপর খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার আগেই দুইটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানান।
এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত হারুন অর রশিদ। তিনি বলেন, ইউছুফ আলীর সাথে আমার সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। সে এই আগুন দিয়ে আমার সবকিছু শেষ করে দিয়েছে।
বিষয়টি অস্বীকার করে অপর ক্ষতিগ্রস্ত ইউছুফ আলী জানান, আমার বসতঘর ও ঘরে থাকা সব মালামালগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অথচ তার (হারুন অর রশিদ) আংশিক ক্ষতি হয়েছে। তিনি পাল্টা প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি যদি বলি, সে আমার বসতঘরে আগুন দিয়েছে।
গ্যাস সিলিন্ডারের বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত উল্লেখ করে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রাশেদুল আলম জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনা হয়।
এ সময় তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের মোবাইলে শত-সহ¯্র মোবাইল নম্বর সেভ থাকে। অথচ ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষসহ জরুরি নম্বরগুলো সেভ থাকে না।
কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করে বলেন, যথাসময়ে দুর্ঘটনাস্থলে আসতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কম হয়। তাই তিনি সর্বস্তরের জনসাধারণকে ফায়ার সার্ভিস (০১৭২৭-৭২৮৬৫৩) ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ (০১৭৬৯-৪০০৯১২) সহ অন্য জরুরি নম্বরগুলো মোবাইলে সেভ রাখার অনুরোধ জানান।

১৭ মে, ২০২২।