১২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশে হামলা এবং দু’পক্ষের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ১২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্য দিয়েই প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল ও সমাবেশে আওয়ামী লীগের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেয়।
কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনায় মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারে প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে উপজেলা আওয়ামী লীগ। মিছিলের আগে একদল যুবক সভা মঞ্চস্থল এসে মঞ্চ ব্যাপক ভাঙচুর করে সড়কের মাঝখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর দু’পক্ষের মাঝে ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বাজারের ব্যবসায়ী ও পথচারীসহ যাত্রী সাধারণের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ক্ষমতাধর নেতার ছত্রছায়ায় হাজীগঞ্জ বাজারে আওয়ামী লীগের অঙ্গ-সহযোগী একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা এই হামলা করেন বলে জানান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দিন। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নাছির উদ্দিন আহমেদ টেলি-কনফারেন্সে বক্তব্যকালীন সময়ে সমাবেশস্থলে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। এতে করে আবারো শুরু হয় দুই পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এরপর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও শর্টগানের গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে আবারো সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে দুই পক্ষের ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয় এবং একুশে হাসপাতালসহ বেশ কিছু গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে পুলিশের তৎপরতা ও দলীয় নেতৃবৃন্দের সহনশীল অবস্থানের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় ব্যবসায়ীরা।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ হেলাল উদ্দিন মিয়াজী এবং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দিন জানান, কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে কেন্দ্রিয় আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রেরিত ম্যাসেজের নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে।
তিনি বলেন, দপ্তর সম্পাদকের নির্দেশনা মানে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়েদুল কাদের এমপি তথা দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা। তাই এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের উপজেলা আওয়ামী লীগ কর্মসূচি গ্রহণ করে। যা গত তিন দিন আগে হাজীগঞ্জ থানার ওসিকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে।
প্রতিবাদ মিছিলে হামলার বিষয়ে গাজী মাইনুদ্দিন জানান, যারা হামলা করে দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাঁধাগ্রস্ত করে তারা আওয়ামী লীগের কেউ নয়। তারা আওয়ামী লীগের শত্রু, তারা বঙ্গবন্ধুর শত্রু, তারা স্বাধীনতার শত্রু। উপজেলা আওয়ামী লীগ এক ও ঐক্যবদ্ধ। ওরা একটি সহযোগী সংগঠন। এই সহযোগী সংগঠন, ক্ষমতাধর নেতার ছত্রছায়ায় থেকে হাজীগঞ্জ বাজারে অনেক কিছু করে যাচ্ছে।আমরা এই আক্রমনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন জানান, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের অন্তঃকোন্দলের কারণে খারাপ পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা থেকে দুই প্লাটুন পুলিশ, হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি টিম কাজ করেছে। আমরা দুই পক্ষের সাথে কথা বলেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১২২ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ব্যবহার করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে এই কর্মকর্তা বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ নিজ থেকে কোন মামলা করবে না। তবে কেউ মামলা দিতে চাইলে আমরা মামলা নিবো এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করবো।
১৬ ডিসেম্বর, ২০২০।
