পৌর ৯নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক
নিজস্ব প্রতিনিধি :
হাজীগঞ্জে পৌর ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল তার ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ মজুমদারের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল শনিবার বিকেলে তার আলীগঞ্জস্থ কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুন্সী মোহাম্মদ মনিরের সভাপতিত্বে পৌর ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোস্তফা কামাল সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত কয়েক দিন যাবৎ আমাদের ৯নং ওয়ার্ডে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে এ বিষয়টি সাংবাদিকরা কম-বেশী জানেন। প্রশাসনসহ ও পৌরসভাবাসীকে সত্য কথাটি আপনাদের মাধ্যমে জানানোর জন্যেই আমি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছি।
তিনি বলেন, গত ৫ নভেম্বর হাজীগঞ্জ মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার জন্য কংগাইশ মাদ্রাসা বাড়ির দেলোয়ারের ছেলে শরীফের অটোরিক্সা করে ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদের মেয়েসহ দু’জন মেয়ে একত্রে রওনা দিলে হঠাৎ করে স্কুলের উত্তর পাশের কম্পিউটার দোকানদার জয় নামীয় ছেলেটি অটো ড্রাইভ্রার শরীফ কে গাড়ী থামাতে বলে মেয়েদের সাথে কথা আছে, তার কথা না শুনে ড্রাইভার গাড়িটা নিয়ে চলে আসে। পরবর্তীতে অটো ড্রাইভার হাজীগঞ্জ বাজারে যাওয়ার পথে, কম্পিউটার দোকানদার জয় অটো ড্রাইভার কে অতর্কিতভাবে মারধর করে এবং হুমকি দেয় বলে কংগাইশের যারা আসবে এবং এখান দিয়ে যাবে তাদের মারধর করবে।
অটো ড্রাইভার শরীফ এলাকায় এসে তার বাড়ির কয়েকজন জানায়। তারা বিষয়টি কাউন্সিলর আজাদের ভাই শাহাদাত মজুমদারকে জানায়। যার উত্তরে উনি বলেন, ‘টোরাগড়ের ঐ ছেলের নাম সংগ্রহ করে আমরা তার বিরুদ্ধে মামলা করব’- বলে তাদের বিদায় করে দেয়।
মোস্তফা দাবি করেন, আমার ছেলেসহ মো. সজীব, মো. সানি কেন শাহাদাত মজুমদারের কাছে ঐ বিষয়ে বিচার দিয়েছে এজন্য টোরাগড়ের ঐ ছেলের পক্ষ নিয়ে আজাদ কাউন্সিলরের ছেলে মহিউদ্দিন রাফি এবং ঐ বাড়ীর মানিকের ছেলে মেহরাজ সহ দুইজনে মিলে আলীগঞ্জ হযরত মাদ্দাখাঁ (রা.) মসজিদ গেইটের পূর্ব পাশে রাত ৯.০০টায় ঐ সজীবকে মারছে, এ অবস্থায় আমার ছেলে রহমত উল্লাহ আমার দোকান বন্ধ করে বাড়ি যাওয়ার পথে দেখে তাদের মারামারি থামিয়ে ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি মাসুদ রানা ও আমার ছেলে রাফির পিতা কাউন্সিলরকে বালুর ঘাটে গিয়ে জানালে কাউন্সিলর বলেন, ‘ব্যাটা মোস্তাফার ছেলে আমার প্রতিপক্ষ হয়ে এখানে আসলি কেন?’ বলে অতকির্ত ভাষায় গালমন্দ করে। আমাকে, আমার ছেলেকে ও মাসুদ রানাকে অসম্মানজনক ও হেয় প্রতিপণ্য করে তাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সেক্রেটারীর এমন ন্যাক্কারজনক ব্যবহারের কারণে অতিষ্ট হয়ে ক্ষোভের মাথায় সোমবার রাত ৯টার সময় এলাকার উত্তেজিত জনতা তাদের উপর ক্ষিপ্ত হলে প্রশাসন এসে শান্ত করে।
ঐ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাত ১০টার সময় ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদের ছেলে মহিউদ্দিন রাফি, মানিকের ছেলে মিরাজ ও কবিরের ছেলে সজীবসহ টোরাগড়ের অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন সহ রড, হকস্টিক, দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র ও বোতলে থাকা পেট্রোল নিয়ে আমার ঘর বাড়ি জ্বালানোর জন্য এবং আমার ছেলেসহ আমাকে খুন করার জন্য আমার বাড়ির সামনে গেলে আমার এলাকার লোকজন দাওয়া করলে তারা চলে যায়।
এ বিষয়ে আমি নিজে বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ করেছি। তাহারা ও ইসমাঈল হোসেন রুবেল বাদী হয়ে একটি অভিযোগ করেছে।
বিষয়টি মুরব্বিরা কাউন্সিলরের সাথে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত দেন গত ৯ নভেম্বর ২টায় সালিস করে তা’ সুরাহা করে দেবে। কিন্তু আজাদের অসহযোগিতার কারণে তা সমাধান হয়নি।
মোস্তফা বলেন, গত ৮ নভেম্বর মুরুব্বিদের অবমূল্যায়ন করে কাউন্সিলরের পিএস ইসমাঈল হোসেন রুবেল ঐ সানিকে এবং আলাউদ্দিনকে মারধর করেন। যা সবাই জানেন।
তিনি বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি জন্য আমাদের পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাজি সৈয়দ আহমেদ খসরু এবং প্যানেল মেয়র মো. জনি দায়িত্ব নিয়ে উভয় পক্ষকে পৌরসভায় ডাকেন। আমি ও আমার লোকজনসহ যথাসময়ে হাজির হলেও তারা হাজির হয় নাই।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, ১১ নভেম্বর কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদ এনায়েতপুর ও কংগাইশের কিছু লোক ডেকে আমার বিরুদ্ধে উপস্থিত স্বাক্ষর নিয়া আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন মানহানিকর ঘটনার মতো বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করার পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছে।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য আবদুস ছাত্তার মাস্টার, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাচ্চু মিয়া মিজি, ওয়ার্ড আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি মাসুদ খান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইব্রাহীম খলিল, শফিক ম্যানেজার, আজিজুর রহমান, যুগ্ম সম্পাদক খোকাসহ অন্যান্য আওযামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ।