ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বড়কুল পূর্ব ইউপির চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ কবির হোসেন মিয়াজী। গত সোমবার (৮ মার্চ) দুপুরে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়ন পরিষদের হলরুমে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যাা তুলে ধরে তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
আলহাজ কবির হোসেন মিয়াজী বলেন, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার প্রতিপক্ষ ব্যক্তিরা আমার বিরুদ্ধে উঠে-পড়ে লেগেছে। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশসহ বিভিন্নভাবে অপ-প্রচার রটাচ্ছে। আমি সংবাদকর্মীদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি, আপনারা যাচাই-বাছাইপূর্বক তথ্য সংগ্রহ করে সত্য ঘটনা বা অনিয়ম তুলে ধরুন। যদি আমিও জড়িত থাকি, আপনারা আমার বিরুদ্ধেও লিখুন।
লিখিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, গত ৫ বছরে দুর্নীতি করে আমি সম্পদ অর্জন করেছি। অথচ যে সম্পদের তথ্য দেয়া হয়েছে তা হলো, ২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনের হলফনামা আমার সম্পদ বিবরণীর তথ্য। যা চেয়ারম্যান হওয়ার আগেই আমার অর্জিত সম্পদ ছিলো। ষড়যন্ত্রকারীরা সেই হলফনামা দেখে সংবাদকর্মীদের মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়েছে।
ভাতার কার্ডের অনিয়মের কথা উল্লেখ করে কবির হোসেন মিয়াজী বলেন, প্রকৃতপক্ষে কোন ভাতার কার্ডের সাথে আমি জড়িত নই। এ ব্যাপারে আমি ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের সমবন্টন করে দিয়েছি। তারা বিষয়টি দেখেন। এ ব্যাপারে আমার সাথে কোন কার্ডধারীর সাথে কথোপকথন হয়নি। সুতরাং টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।
প্রতিবন্ধী নূরে আলম হত্যা মামলার বিবাদী কাউছার হোসেন মিয়াজীর পক্ষে সুপারিশ করিনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাউছার আমার ইউনিয়ন পরিষদের কোন দায়-দায়িত্বে নেই এবং তাকে কোন কর্মকান্ডের দায়িত্বও দেওয়া হয়নি। তাছাড়া প্রতিবন্ধী নূরে আলমের মৃতদেহ যেদিন উদ্ধার করা হয়েছে, সেদিন চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) আসনের সাংসদ মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের একটি অনুষ্ঠানে আমি ঢাকায় ছিলাম।
কবির হোসেন মিয়াজী বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান দায়িত্ব পাওয়ার পর কোন প্রকার উন্নয়ন কাজের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি এবং কোনো ঠিকাদার আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছে, এমন তথ্য জানা নেই। এমন কে অভিযোগকারী, তাও জানা নেই। সুতরাং কোন ঠিকাদারের সাথে আমার কোন চাঁদা দাবির প্রশ্নই আসে না। এন্নাতলী গ্রামের বিদ্যুৎ প্রসঙ্গে কোন গ্রাহকের সাথে অদ্যাবধি আমার কথা হয়নি।
রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি ২০০৪ সালে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। সবশেষ ২০১৯ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে আবারো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। আমি ১৯৯৪ সালে ঢাকায় ব্যবসা শুরু করি। ২০০১ সিটি কর্পোরেশনের দুইটি ঘর ও ২০০৭ যাত্রাবাড়ির বড় বাজারে ৬টি দোকানঘর বরাদ্দ নিয়ে ব্যবসা করি। বর্তমানে যাত্রাবাড়ি এলাকায় আমার একটি ৬ তলা বিশিষ্ট ভবন রয়েছে।
কবির হোসেন মিয়াজী আরো বলেন, ঢাকার কাজলায় কোন সম্পত্তি ও যাত্রাবাড়িতে কোন ফ্ল্যাট নেই। যদি কেউ দেখাতে বা প্রমাণ করতে পারেন, তাহলেও ওই সম্পদ ও ফ্ল্যাট তার। আর আমি যেই জিপ গাড়ি ব্যবহার করি তা হলো, আমার বড় মেয়ের জামাতার। যার প্রমাণাদি রয়েছে। সে (জামাতা) একজন ব্যবসায়ী।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তাহের, ইউনিয়ন মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য হোসনেআরা বেগম, সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা বেগম, প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ, জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার প্রতিনিধি, সাধারণ ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্যসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
১০ মার্চ, ২০২১।
