হাজীগঞ্জে একদিনে ৩ সিজার

প্রশংসায় ভাসছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একদিনে ৩টি সফল অস্ত্রোপচারের (সিজার) মাধ্যমে তিনজন অন্তঃস্বত্বা মা সন্তান জন্ম দিয়েছেন। সম্প্রতি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে (ওটি) জটিল প্রসূতিদের অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি সরকারিভাবে বিনামূল্যে ঔষধ দেওয়া হয়েছে। এতে অস্বচ্ছল ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওই পরিবার উপকৃত হয়েছেন। বিষয়টি জানার পর প্রশংসায় ভাসছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ৭ জুলাই শাহরাস্তি উপজেলার আলিপুর গ্রামের আদিবা (২৫), হাজীগঞ্জ উপজেলার পৌরসভাধীন এনায়েতপুর গ্রামের সালমা (২৫) ও ফরিদগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্রামের হাওয়া (২৩) প্রসব জটিলতা নিয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। পরে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা নঈমের নেতৃত্বে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ওই তিন নারীর শারীরিক অবস্থা অস্ত্রোপচারের উপযোগী হওয়ায় তাদের সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়া হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলাম মাওলা নঈমের উপস্থিতিতে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অপারেশন টিমে ছিলেন- গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. মাহমুদা বেগম, সহযোগী ডা. ফারহানা হোসেন এবং এনেস্থেসিয়া দিয়েছেন ডা. আদিবা সুলতানা।
বর্তমানে মা ও নবজাতক উভয়েই সুস্থ আছেন। এদিকে একদিনে তিনটি সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেওয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা। অপারেশনের দিন ৩ পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের হাসপাতালের বারান্দায় ছুটোছুটি দেখে মানুষ ঝড়ো হতে থাকে। পরবর্তীতে সফল সিজারের পর তাদের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আগত রোগী ও তাদের স্বজনরা প্রশংসা করতে থাকেন।
কথা হয় প্রসূতি আদিবা, সালমা ও হাওয়া এবং তাদের পরিবারের সাথে। তারা সবাই চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এতো ভালো চিকিৎসা হাসপাতালে পাবো, তা আমরা কখনোই ভাবিনি।
এ ব্যাপারে কথা হয় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. গোলমা মাওলা নঈমের সাথে। তিনি ওটি সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেওয়া তিন নবজাতক এবং তাদের মায়েরা সবাই সুস্থ আছেন।
তিনি বলেন, মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সুবিধায় ইতোমধ্যে চাহিদার প্রয়োজনীয় কিছু যন্ত্রপাতির পেয়ে আগের চেয়ে একটু বেশি সেবা দিতে পারছি। সেবার মান বৃদ্ধি করতে আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি। আশাকরি, আমরা সবাই মিলে যদি ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি, তাহলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্ন অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে যাবে। অর্থাৎ আমরা উপজেলা পর্যায়ে অধিকাংশ সেবা দিতে পারবো।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের পর ২০২২ সালের আগস্ট মাসের ১৩ তারিখ পর্যন্ত হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয়নি। এতে করে অ্যানেসথেসিয়া যন্ত্র, ডায়াথার্মি মেশিন, সাকার মেশিন, হাইড্রোলিক ওটি টেবিল, অটোক্লেভ যন্ত্র, শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র, স্ট্যান্ডবাই ওটি ও সিলিং লাইট, স্টাবিলাইজারসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ, বৈদ্যুতিক লাইন অকেজো ও অপরাশেনের বিভিন্ন সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যায়।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসাবে ডা. মো. গোলাম মাওলা যোগদানের পরই নজর দেন অপারেশন থিয়েটারের দিকে। প্রথমেই তিনি ব্যক্তি উদ্যোগে অপারেশন থিয়েটার চালুর ব্যবস্থা করেন। এক এক করে সব সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে ওই বছরের ১৪ আগস্ট রাখি সাহা নামের একজন অন্তঃস্বত্বা নারীর সিজারের মাধ্যমে অপারেশন থিয়েটারটি চালু করা হয়।
এরপর থেকে নিয়মিত নরমাল ডেলিভারি, সিজার, হার্নিয়াসহ যেসব অপারেশন সম্ভব, তা করা হচ্ছে। বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর এবং সেবার মান ভালো হওয়ায় আশপাশের উপজেলার রোগীরাও আসছেন এ সরকারি হাসপাতালে। এতে করে প্রতিনিয়ত সেবাগ্রহিতার সংখ্যা বাড়ছে।

১১ জুলাই, ২০২৪।