মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে এবার আগুনে নিঃস্ব হলো এক প্রবাসীর পরিবার। গত শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার কালচোঁ দক্ষিণ
ইউনিয়নের রামপুর নওহাটা মিয়াজী বাড়িতে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে করে ওই বাড়ির মৃত আবদুর
কাদের মিজির ছেলে প্রবাসী কাউছার মিজির বসতঘর ও ঘরে থাকা সকল মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। গতকাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া।
এর আগে গত রোববার ভোর রাতে হাজীগঞ্জ পূর্ব বাজারে বৈদ্যুতিক সর্ট-সার্কিটের আগুনে একটি তিনতলা বিশিষ্ট কাঠের ভবন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ওই ভবনের দুইজন ব্যবসায়ীর শো-রুম ও গোডাউনসহ প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল, নগদ টাকা ও প্রয়োজনী কাগজপত্র পুড়ে যায়।
স্থানীয় রামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহআলম জানান, স্ত্রী ও সন্তানদের বাড়িতে রেখে সম্প্রতি ঋণ ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার-দেনা করে প্রবাসে পাড়ি জমান কাউছার। শুক্রবার দিবাগত রাতে বসতঘরে আগুন জ্বলতে দেখে ঘুম ভাঙে কাউছারের স্ত্রী জোৎস্না বেগমের। তিনি কোন মতে জীবন নিয়ে দুই সন্তানসহ ঘর থেকে বের হয়ে পড়েন।
এরপর জোৎস্না বেগমের ডাক-চিৎকারে বাড়ির লোকজন ছুটে আসার আগেই আগুন ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। যা বাড়ি ও স্থানীয় লোকজনের পক্ষে নিভানো অসম্ভব ছিলো। খবর পেয়ে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় আধাঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততোক্ষণে বসতঘর, ঘরে থাকা আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, স্বর্ণালংকার, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তার ভিটে-মাটি ছাড়া আর কিছুই রইলো না।
এদিকে আগুনে গৃহবধূর সর্বস্ব পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় শনিবার দুপুরের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছি। তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।
২৪ জানুয়ারি, ২০২১।
