হাজীগঞ্জে কথিত নানার ধর্ষণে ৭ম শ্রেণির ছাত্রী গর্ভবতী

নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার, অভিযুক্ত ধর্ষক নানাসহ আটক ৪

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে কথিত নানার ধর্ষণে সপ্তম শ্রেণি পড়ুয়া এক ছাত্রী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে অবৈধ গর্ভপাত করে নবজাতক শিশুটিকে ডাস্টবিনে ফেলে দেন। এতে করে আনুমানিক ছয় মাসের নবজাতক শিশুটি (ছেলে) মারা যায়। বুধবার (২৩ মার্চ) বিকালে পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকায় গাজী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানতে পেরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার এবং ধর্ষণ ও গর্ভপাত করে নবজাতককে হত্যার অভিযোগে নানা সিরাজুল ইসলামকে (৫৫) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেন। একই সময়ে সিরাজুল ইসলামের মেয়ে বকুল, পুত্রবধূ সীমা আক্তার ও গর্ভপাতকারী হাজীগঞ্জ ইসলামীয়া মর্ডান হাসপাতালের আয়াসহ জড়িতদের আটক করা হয়।
আটক কথিত নানা সিরাজুল ইসলাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের দাই বাড়ির বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের হাড়িয়াইন আড়ং বাজার সংলগ্ন এলাকায় বসবাস করেন এবং সেখানেই এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। পরে ওই ছাত্রীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে পৌরসভাধীন মকিমাবাদ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই গর্ভপাত করানো হয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ পেয়ে অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দের নিদের্শনায় হাজীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. মহসিন ও মো. ইব্রাহিম উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়ন থেকে কথিত নানা সিরাজুল ইসলাম, তার মেয়ে, পুত্রবধূ ও গর্ভপাতকারী আয়াসহ জড়িতদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে।
এসময় তাদের স্বীকারোক্তিতে এ দিন (বুধবার) রাতে পৌরসভাধীন ৪নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গাজী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় হাজীগঞ্জ পৌরসভার ময়লা ফেলার ভ্যানগাড়িতে থাকা বালতির মধ্য থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে এবং পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভ্যানগাড়ি ও বালতিটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ জানান, নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার ও ধর্ষণের অভিযোগে সিরাজুল ইসলামসহ গর্ভপাতের অভিযোগে জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

২৪ মার্চ, ২০২২।