হাজীগঞ্জে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের হার কমেছে

আক্রান্ত ১৪৭৯, মৃত ২৬, সুস্থ ১৪০৭ ও চিকিৎসাধীন ৪৬ জন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সারা দেশের মতো হাজীগঞ্জেও ধীরে ধীরে কমে এসে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) সংক্রমণ এবং বাড়ছে সুস্থ রোগীর সংখ্যা। গত ২০ দিনে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলায় নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৮৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৩৩৮ জন কোভিড-১৯ রোগী। এর মধ্যে মৃত্যুর কোন রেকর্ড নেই।
অথচ এর আগের ১৫ দিনে (১-১৫ আগস্ট) করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৭৫ জন আর সুস্থ হয়েছেন ৩৪২ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ জন কোডিভ-১৯ রোগী। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ৪৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এদিকে করোনা সংক্রমণের হার দিন দিন কমে আসলেও বেশিরভাগ মানুষ মাস্ক পরিধান করছেন না এবং স্বাস্থ্যবিধি পালনে একেবারে উদাসীন হয়ে পড়েছেন।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজীগঞ্জে করোনা আক্রান্তের চেয়ে অনেক বেশি মানুষ সুস্থ হয়েছেন। এই ২০ দিনে করোনা উপসর্গ নিয়ে হাজীগঞ্জ থেকে মোট ২৫৮ নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন। এর মধ্যে ৮৮ জন রিপোর্ট পজেটিভ। নতুন ও পুরানো আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩৩৮ জন। আশার বাণী হচ্ছে, এই সময়ের মধ্যে করোনায় মৃত্যুর কোন রেকর্ড নেই।
এর আগের ১৫ দিনে অর্থাৎ গত ১-১৫ আগস্ট করোনা উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৪৫ জন নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৭৫ জনের করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি মানুষ করোনা পজেটিভ ছিলেন। আবার আক্রান্তদের মধ্যে দুই জন মারা গিয়েছেন। এর মধ্যে পহেলা আগস্ট একজন এবং দ্বিতীয় জন মারা যান ১১ আগস্ট।
গত বছরের (২০২০) মার্চ মাস থেকে শুরু করে সবশেষ চলতি বছরের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাজীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মোট ২ হাজার ৮০৮ জন নমুন পরীক্ষা করিয়েছেন। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭৯ জনের করোনা পজেটিভ হয়েছিল। আবার এই ১ হাজার ৪৭৯ জন করোনা রোগীর মধ্যে মারা গেছেন ২৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৪০৭ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন ৪৬ জন।
এদিকে করোনা সংক্রমণ কমে আসায় মানুষের মাঝে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলতে দেখা গেছে। তবে এখনো কিছু মানুষ মাস্ক পরিধান করলেও স্বাস্থ্যবিধি পালনে একেবারে উদাসীন। সরকারি-বেসরকারি কিছু অফিস ছাড়া বাইরে কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। অথচ স্বাস্থ্যবিধি পালন না করলে দেশে করোনার তৃতীয় ঢেউ আসতে পারে বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এর আগেও যেমনটি হয়েছিল। মানুষের স্বাস্থ্যবিধিতে ব্যাপক অনীহা ও অবহেলার কারণে দেশে করোনায় দ্বিতীয় ঢেউ এসেছে। এখন দ্বিতীয় ঢেউ কিছুটা কমে যাচ্ছে। তবে প্রথম ঢেউয়ের পর যেভাবে মানুষ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি উদাসীন হয়েছিল সেই ঘটনা আবার ঘটতে দিলে খুব দ্রুতই দেশে তৃতীয় ঢেউ চলে আসতে পারে বলে আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই করোনা প্রতিরোধে মাস্কের ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি পালনের কোন বিকল্প নেই।
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২১।