হাজীগঞ্জে কাভার্ডভ্যান ও সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহত ৩

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে নিহতের পরিবার দিশেহারা

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মালবাহী কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত স্কুটারের মুখোমুখি সংঘর্ষে সিএনজির এক যাত্রী নিহত ও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জুন) দুপুরে হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন এনায়েতপুর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত স্কুটারের চালক পালিয়ে যান। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার এসআই মো. আব্দুর রউফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত স্কুটারটি জব্দ করে এবং নিহতের মরদেহ পুলিশি হেফাজতে নিয়ে আসে।
নিহত মো. তাজুল ইসলাম (৫৫) শাহরাস্তি উপজেলার টামটা উত্তর ইউনিয়নের কুলশি গ্রামের চকিদার বাড়ির মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে এবং আহত মো. বাচ্চু মজুমদার (৫৫) হাজীগঞ্জ উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের পশ্চিম হাটিলা গ্রামের মজুমদার বাড়ির মৃত আলী আহম্মদের ছেলে ও অপর আহত মো. সেলিম মজুমদার একই ইউনিয়নের হাটিলা টংগিরপাড় গ্রামের মজুমদার বাড়ির মৃত আম্বর আলীর ছেলে।
জানা গেছে, এদিন দুপুরে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের এনায়েতপুর বাজারস্থ জামে মসজিদ সংলগ্ন স্থানে শাহরাস্তিমুখী একটি দ্রুতগামী কাভার্ডভ্যান (ঢাকা মেট্রো-অ-১১-১৩২৪) হাজীগঞ্জমুখী একটি নম্বরহীন সিএনজিচালিত স্কুটারকে চাপা দেয়। এতে স্কুটারের তিনযাত্রী আহত হন। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাজুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মো. বাচ্চু মজুমদার প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার ও মো. সেলিম মজুমদারকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এদিকে দুর্ঘটনার পর কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত স্কুটারের চালক পালিয়ে যান বলে জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও সিএনজিচালিত স্কুটারটি জব্দ করে এবং নিহতের মরদেহ থানা হেফাজতে নিয়ে আসে।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, কাভার্ডভ্যানটি দ্রুতগামী হওয়ার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে কাভার্ডভ্যানটি সড়কের অন্যপাশে গিয়ে সিএনজির মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, তাজুল ইসলাম পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রী, ৩ মেয়ে ও ২ ছেলে রয়েছে। তিনি শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজারস্থ একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করতেন। তার স্বল্প আয় দিয়ে পরিবারটির জীবিকা নির্বাহ হতো। কিন্তু তার মৃত্যুতে পরিবার অসহায় হয়ে পড়েছে।
গুরুতর আহত মো. বাচ্চু মজুমদারের ছেলে মো. রিয়াদ মজুমদার জানান, তার বাবাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা এখনো সংকটাপন্ন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ জানান, সড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুইটি সরিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে। তিনি বলেন, লিখিত আবেদনের ভিত্তিতে নিহতের পরিবারের কাছে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ হস্তান্তর এবং দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যান ও সিএনজি জব্দ করা হয়েছে। পরবর্তীতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

২৮ জুন, ২০২৩।