সওজ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে খালটি হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন এলাকায় নেই বললেই চলে। সড়ক ও জনপদ (সওজ) কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় এবং দখলকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থাগ্রহণ না করায় প্রতিদিনই খালটির কোন না কোন অংশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এতে দিনে দিনে পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। এতে কমছে ফসল উৎপাদন। এছাড়া ভুক্তভোগী হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ও এলাকার লোকজন।
তেমনি কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের উপজেলার হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কৈয়ারপুল রেলক্রসিং সংলগ্ন সাতবাড়িয়া এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে বালু ফেলে খাল ভরাট করছেন মনির হোসেন নামের এক ব্যক্তি। এতে ওই এলাকাসহ গ্রামের পানি প্রবাহের পথ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে রোববার (২ এপ্রিল) স্থানীয় কৃষকরা একত্রিত হয়ে খাল ভরাট কাজে বাঁধা দেন। এসময় তাদের (কৃষক) সাথে এলাকাবাসীও যোগ দেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশেই সওজের খাল। খালের এই অংশের মাত্র ১০ গজ পূর্বে সওজের একটি কালভার্ট রয়েছে। এই কালভার্টটি কয়েক বছর আগে নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে। আবার এই কালভার্টের ৫০ গজ দক্ষিণে রয়েছে চাঁদপুর-লাকসাম রেলপথের উপর আরেকটি ব্রিজ। মূলত সওজ আর রেলের এই দুটি সেতু ধরে সওজের ও রেলপথের উত্তর পাশে পানি দক্ষিণ পাশে প্রাবাহিত হয়। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের এই দুটি সেতুর নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে থাকে। এছাড়া ইরিগেশন মৌসুমের বেশ কয়েকটি কৃষি মাঠ তথা বেতিয়াপাড়া, সাতবাড়িয়া, ফুলছোঁয়া, সিদলা, নওহাটা গ্রামের কৃষি মাঠের আটকেপড়া পানি সওজের এই খাল ধরে প্রবাহিত হয়ে থাকে। কৃষি ও বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবাহিত হওয়া খালের মাত্র ৫ গজ পশ্চিমে মূল খাল বালু ফেলে ভরাট করে খালের মাঝখানে ছোট কালভার্ট তৈরির কাজ শুরু করে।
এদিকে দিনে-দিনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় সওজ কর্তৃপক্ষের প্রতি ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেছেন কৃষকসহ ভুক্তভোগী লোকজন। তারা জানান, আর কতটুকু দখল ও ভরাট হলে সওজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসবে।
এ বিষয়ে সাতবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও হাজীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতালেব হোসেন জানান, আজ (২ এপ্রিল) সকালে আমাদের গ্রামের অনেক কৃষক ভরাটকৃত খাল পাড়ে গিয়ে আমাদের খবর দেয়। আমরা সেখানে গিয়ে দেখি পুরো সিএন্ডবি’র (সওজের) খালটি বালি দিয়ে ভরাট করে ফেলেছে খালের উত্তর পাশের নির্মাণাধীন ভবনের মালিক।
সদর ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য আবুল বাসার সংবাদকর্মীদের জানান, আমাদের ফুলছোঁয়া ও সিদলা মাঠে বিএডিসি’র সেচ প্রকল্প রয়েছে। বেশ কয়েকটি কৃষি মাঠের পানি সওজের এই খাল ও পাশে রেলের সেতু ধরে নিস্কাশন হয়। এখন সওজের খালটি এভাবে ভরাট হয়ে গেলে কৃষি মাঠে পানি সবসময় মাঠে আটকে থাকবে। এতে কৃষি জমিগুলো স্থায়ীভাবে চাষের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
তিনি বলেন, আজ কৃষকদের অনুরোধে আমি ইউএনও স্যারের সাথে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন, খাল ভরাটের কাজসহ কালভার্ট তৈরির কাজ বন্ধ করে রাখতে।
এ বিষয়ে খালের পাশের জমির মালিক তথা নির্মাণাধীন ভবনের মালিক প্রবাসী মনির হোসেনের ছেলে রায়হান মুঠোফোনে জানান, আমরা কাজ বন্ধ রাখছি। সড়ক বিভাগ থেকে বক্স কালভার্ট তৈরির অনুমতি এনে সামনের সপ্তাহে কাজ ধরবো।
সওজের ঐ অংশের খাল ভরাট ও বক্স কালভার্ট করার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে চাঁদপুর সড়ক বিভাগ হাজীগঞ্জ উপ-সহকারী প্রকৌশলী কার্যালয়ের এসএই মো. আবু হানিফ সংবাদকর্মীদের জানান, আমি সকালে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। রিপোর্ট পাওয়ার পর আমরা আইনী ব্যবস্থা নেবো।
০৩ এপ্রিল, ২০২৩।
