মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
সারা দেশে ইরি-বোরো ধানা কাটা শুরু হয়েছে। কিন্তু করোনা আতংকে লোকজন সেলফ কোয়ারেন্টাইনে এবং যানবাহন বন্ধ থাকায় দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ধান কাটার শ্রমিক খুঁজে না পাওয়ায় কৃষকরা দুর্ভোগ পোহান সবচেয়ে বেশি। তাই করোনা পরিস্থিতিতে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগ।
উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলির নির্দেশে গত ২৩ এপ্রিল থেকে প্রতিনিয়ত কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এর আগে শ্রমিকের অভাবে যেসব কৃষক ধান কাটতে পারছেন না তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ২২ এপ্রিল ফেসবুকে নির্দেশনা দেন ছাত্রলীগ সভাপতি। তার নেতৃত্বে খোলা হয় হটলাইন। এরপর থেকে শুরু হয় ধানা কাটা কার্যক্রম।
দেখা গেছে, করোনা আতঙ্কে লোকজন যেখানে ঘরবন্দী, সেখানে কাঠফাটা রোদে স্বেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। প্রতিনিয়ত তারা শ্রমিকবেশে কাজ করছেন মাঠে, কাস্তে হাতে কাটছেন জমির পাকা ধান, মাথায় বয়ে নিয়ে তুলে দিচ্ছেন কৃষকের ঘরে ঘরে। এতে কৃষকসহ ওইসব এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে উপজেলা ছাত্রলীগ।
দেশের এই সংকটময় মুহূর্তে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যে দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন সে কারণে খুশি এলাকাবাসী ও কৃষকরা। শুধু ধান কাটা নয়, করোনা প্রাদুর্ভাবে কর্মহীন অসহায় মানুষের পাশে খাদ্য সামগ্রী নিয়েও দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ। তারা ব্যক্তিগত এবং যৌথ উদ্যোগেও কর্মহীনের পাশাপাশি অসহায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর পরিবারকেও সহযোগিতা করেছেন।
সরজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বুধবার (৭ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার গন্ধর্ব্যপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পাঁচৈ গ্রামের তালুকদার বাড়ির কৃষক মো. শরীফ হোসেনের ৯০ শতক জমির পাকা ইরি ধান কেটে বাড়িতে তুলে দেয়। উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. এবায়েদুর রহমান খোকনের নেতৃত্বে সেই ধান কাটা হয়।
এ সময় উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এআর সুমন, জহির খান, মমিন মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন জীবন ও ফয়সাল মাহমুদ, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য ও তেজগাঁও কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাজু নিরব, উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক ফরহাদ আলিফ, ইউনিয়ন ছাত্র নেতা শাহপরান খাঁনসহ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ঐ ধান কাটায় অংশ নেন।
কথা হয় কৃষক শরীফ হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, এবার ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আগে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তুলতে পারব কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। হঠাৎ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাকে সহযোগিতা করে আমার ধান কেটে দেয়। তারা আমার যে উপকার করেছেন, এজন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।
বিষয়টি জানতে চাইলে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এবায়েদুর রহমান খোকন বলি জানান, করোনা পরিস্থিতির ধান কাটার শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে। তাই কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের আহ্বানে এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশনায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকদের ধান কেটে দিচ্ছি।
০৭ মে, ২০২০।
