হাজীগঞ্জে ছেলের এক সপ্তাহ পর বাবার মৃত্যু

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ
হাজীগঞ্জে একই দিন এবং একই সময়ে বাবা-ছেলের মৃত্যু হয়েছে। পার্থক্য শুধু তারিখের। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনসহ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গত শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৯টায় ছেলে আব্দুল আউয়াল (৫০) করোনা উপসর্গ নিয়ে নিজ বাড়িতে মারা যান। আর আজ শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ৯টায় তার বাবা আবুল কাশেম প্রকাশ লেদা মিয়াও (৭৫) করোনা উপসর্গে মৃত্যুবরণ করেন।
মৃত আব্দুল আউয়াল রুবেল হাজীগঞ্জ পৌর যুবদলের আহ্বায়ক পদে দায়িত্বরত ছিলেন। তিনি গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) করোনা পরীক্ষায় হাজীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা জমা দিয়ে আসেন। এর পরদিন ৫ জুন (শুক্রবার) সকালে তিনি মারা যান। একই উপসর্গে আজ সকালে তার বাবাও মারা যান। মৃত আব্দুল আউয়াল হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৬নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ এলাকার সর্দার বাড়ির বাসিন্দা।
এদিকে বাবা আবুল কাশেম লেদা মিয়ারও করোনা পরীক্ষায় নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এসএম সোয়েব আহমেদ চিশতী। মাত্র একসপ্তাহের বাবা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় নিহতের পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীসহ মকিমাবাদ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানেটারী পরিদর্শক মো. জসিম উদ্দিন জানান, গত ২৯ এপ্রিল হাজীগঞ্জে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত ৩৯ জন করোনা উপসর্গে মারা যান। এর মধ্যে ৪ জনের করোনা পজেটিভ আসে। তারা হলেন, হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসাীয় মৃত বিদ্যা সাগর বণিক, আবুল কাশেম ও জাহাঙ্গীর হোসেন এবং উপজেলার রাজারগাঁও গ্রামের ফাতেমা বেগম।
আজ পর্যন্ত হাজীগঞ্জে ২৫ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন মারা গেছেন, ৫ জন সুস্থ হয়েছেন, ২ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং ১৪ জন নিজ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিজ বাড়িতে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা চিকিৎসাধীন ১৪ জনের মধ্যে একাধিক ব্যক্তির ২য় পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ আসে। তারা পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। পরবর্তী পরীক্ষায় নেগেটিভ আসলে তাদের করোনামুক্ত ঘোষণা করা হবে।

১২ জুন, ২০২০।