মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে প্রশাসন ও পুলিশের প্রত্যক্ষ ভূমিকায় ১ লাখ টাকার বিনিময়ে দত্তক দেয়া ১৩ মাস বয়সি শিশু জোবায়েরা আক্তার ফিরেছে মায়ের কোলে। বুধবার (২৩ মার্চ) সকালে শিশুটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা ও মায়ের হাতে তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ।
এসময় জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিসের পক্ষে নগদ ১০ হাজার ও পুলিশ সুপার মো. মিলন মাহমুদের পক্ষে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ২০ হাজার টাকা শিশুটির বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়। এছাড়া শিশুটির বাবার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণসহ শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেন প্রশাসন ও পুলিশ। এছাড়া ইতালি প্রবাসী এক যুবক শিশুটির পরিবারকে নগদ ১ লাখ টাকার অর্থ সহায়তার কথা বলেন।
এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর সাভার এলাকা থেকে শিশুটিকে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসেন থানার এসআই মো. নাজিম উদ্দীন। জোবায়েরা আক্তার হাজীগঞ্জ পৌরসভাধীন ৩নং ওয়ার্ড ধেররা খাটরা-বিলওয়াই এলাকার ইউনুস মজুমদার বাড়ির মো. বশির ও আছমা আক্তার দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান।
গত সোমবার (২১ মার্চ) দুপুরে চিকিৎসা ব্যয় ও ঋণ পরিশোধে নিজের কন্যা সন্তানকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজধানীর এক নিঃসন্তান পরিবারের কাছে দত্তক দেন শিশুটির বাবা-মা। এরপর মঙ্গলবার (২২ মার্চ) সকালে বিষয়টি জানার পর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে প্রশাসন ও পুলিশকে জানান স্থানীয় সংবাদকর্মীরা।
বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে শিশুটিকে বাবা ও মায়ের কোলে ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করে উপজেলা প্রশাসন ও হাজীগঞ্জ থানা। অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে এদিন রাতেই শিশুটিকে রাজধানী থেকে হাজীগঞ্জ নিয়ে আসা হয়।
গতকাল বুধবার (২৩ মার্চ) দুপুরে শিশুটির বাবার বাড়িতে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা ও মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার ও হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ। এসময় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান মানিক, পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র রায়হানুর রহমান জনি উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ জোবাইর সৈয়দ বলেন, বিষয়টি জানার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করি। পরবর্তীতে এসআই মো. নাজিম উদ্দিন শিশুটিকে রাজধানী থেকে হাজীগঞ্জে নিয়ে আসার পর বাবা ও মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেই। এসময় পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদানসহ শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোমেনা আক্তার জানান, শিশুটিকে তার বাবা ও মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় শিশুটির পরিবারকে তাৎক্ষনিক আর্থিক সহযোগিতা প্রদান এবং তার বাবার চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হয়েছে। এসময় তিনি শিশুটির পরিবারের পাশে থাকার কথা বলেন।
২৪ মার্চ, ২০২২।
