হাজীগঞ্জে দুর্বৃত্তের হাতে অটোরিক্সা চালক খুন

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে সোহেল হাছান মাহবুব (৩৫) এক অটোরিক্সা (ব্যাটারীচালিত রিক্সা) চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজারস্থ মিঠানিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ইকবাল মজুমদারের বালুর মহাল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ দিন বিকালেই ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোহেল পৌরসভাধীন ৯নং ওয়ার্ড কংগাইশ গ্রামের জামাল ড্রাইবারের বাড়ির কাদের মিয়ার ছেলে।
ধারণা করা হচ্ছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাতের কোন এক সময়ে সোহেলকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে মরদেহ বালু মহালে ফেলে গেছে এবং যাওয়ার সময় তার অটোরিক্সাটি নিয়ে যায়। তার পরনে ছিলো জিন্স প্যান্ট ও টি-শার্ট এবং গলায় গামছা পেছানো ছিলো। তার মাথায় ও শরীরের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পরে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ, পিবিআই ও সিআইডি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) কাজী আব্দুর রহিম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন, হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ পরিদর্শক মীর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সোহেলের পরিবারের সদস্যরা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। সকালে লোকজন তার মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।
বালু মহালের ম্যানেজার মহিন উদ্দিন জানান, এ দিন সকালে বালু মহাল অফিস কক্ষের দক্ষিণ পাশে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ দেখতে পেয়ে মহালের স্বত্বাধিকারী ইকবাল মজুমদারকে খবর দেন। তিনি হাজীগঞ্জ থানায় জানান। পরে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে।
মহিন আরো জানান, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বালু মহাল থেকে চলে যান। আজ (বুধবার) সকালে এসে তিনি মরদেহটি দেখতে পান।
হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আলমগীর হোসেন রনি জানান, ধারণা করা হচ্ছে সোহেলকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে অটোরিক্সাটি নিয়ে চলে গেছে। থানা পুলিশ ও পিবিআই ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ এবং ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা করা বলে তিনি জানান। মামলা প্রক্রিয়াধীন (এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) কাজী আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের আটক করার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআইসহ পুলিশের একাধিক বিভাগ কাজ শুরু করেছে। হাজীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও দেখা হবে বলে তিনি জানান।

৩০ জুলাই, ২০২০।