হাজীগঞ্জে দেড় হাজার শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না

শিক্ষার্থীদের হতাশা ও অভিভাবকদের

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে দেড় সহ¯্রাধিক শিক্ষার্থী ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষা দিতে পারছে না। নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ায় এসব শিক্ষার্থী এসএসসির ফরম পূরণের সুযোগ পায়নি। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম হতাশা ও অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় ৩২টি বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৯শ’ ৫৯ জন শিক্ষার্থী এসএসসির নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪শ’ ৩১ জন কৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৬১ দশমিক ৪০ শতাংশ।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ১শ’ ৮৯ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫৩ জন, মানবিক বিভাগে ১ হাজার ৫২ জনের মধ্যে মাত্র ৪শ’ ৪০ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ হাজার ৭শ’ ১৮ জনের মধ্যে ৯শ’ ৩৮ জন পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে। তিনটি বিভাগ থেকে ১ হাজার ৫ শ’ ২৮ জন পরীক্ষার্থী নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ৬ শ’ ১২ জন পরীক্ষার্থী মানবিক বিভাগ থেকে ফেল করেছে। গত ২১ নভেম্বর বিলম্ব ফি’সহ ফরম পূরণের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, গত বছর কুমিল্লা বোর্ডের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল অতিরিক্ত খারাপ হওয়ার কারণে এবার বোর্ড থেকে নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতকার্যদের ফরম পূরণের সুযোগ এবং অকৃতকার্যদের ফরম পূরণের সূযোগ না দেয়ার জন্যে কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকৃতকার্যদের ফরম পূরণ না করার জন্যে সতর্ক করে চিঠি দেয়া হয়। মূলত বোর্ড ও দুদকের চিঠি পেয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নড়ে-চড়ে বসেন।
এদিকে অন্যায়ভাবে ফরম পূরণের সুযোগ না পেয়ে ওইসব শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপজেলার চার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর এবং বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছে। এমনিক প্রতিষ্ঠান প্রধানসহ শিক্ষকদের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে জানা গেছে, প্রতিটি বিদ্যালয় থেকে নির্বাচনী পরীক্ষার ফলাফল বিবরণী মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। ওই ফলাফল শিটে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর ও অনুমোদন সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ফরম পূরণের অনুমতি দেয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে বেশ কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা হলে, তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এতো বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয় কিভাবে। তাদের প্রশ্ন, তাহলে ছাত্র-ছাত্রীরা কিভাবে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ১০ম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হলো এবং শিক্ষকরা এতোদিন কি পড়ালেন?
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহআলী রেজা আশ্রাফী জানান, নিয়মের বাইরে গিয়ে অকৃতকার্য কাউকে ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হয়নি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আব্দুল খালেকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে জানান, আমরা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছি।