বিয়ের খাবার গেল হাফিজিয়া মাদরাসায়

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ
হাজীগঞ্জে নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার হাটিলা পূর্ব ইউনিয়নের টঙ্গীরপাড়-নোয়াপাড়া গ্রামের মিজি বাড়িতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এই বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
এ সময় ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বরযাত্রীসহ মেহমানদের জন্য রান্নাকৃত খাবার স্থানীয় লাওকরা হযরত আমানত শাহ ও শাহেনশাহ (রহ.) হাফিজিয়া মাদরাসায় বিতরণ এবং ছাত্রীর বাবাকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া ওই ছাত্রী ইছাপুরা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।
জানা গেছে, এ দিন দুপুরে বাল্যবিবাহের খবর পেয়ে বর যাত্রী আসার আগেই বিয়ে বাড়িতে উপস্থিত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া। তিনি মেয়েটির শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চাইলে সম্প্রতি (১৮ ফেব্রুয়ারি) নেয়া নতুন একটি জন্মনিবন্ধন দেখান তার আত্মীয়-স্বজনেরা।
পরে ছাত্রীর বাবা-মা বাড়ীতে উপস্থিত নেই বলে তারা (আত্মীয়-স্বজন) শিক্ষাগত যোগ্যতার কাগজপত্র দেই-দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করতে থাকেন। এতে প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিয়ে বাড়িতে অবস্থান করেন ইউএনও। পরে তিনি ছাত্রীকে সঙ্গে করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে চলে আসেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এসে ছাত্রীর বাবা দোষ স্বীকার করেন এবং ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেয়েকে বিয়ে না দেয়ার অঙ্গীকার করে মুচলেকা দেন তিনি। এরপর স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জার উপস্থিতিতে বাবার জিম্মায় দিয়ে ছাত্রীকে দিয়ে দেন ইউএনও।
এর আগে বিয়ের খাবার স্থ’ানীয় লাওকরা হযরত আমানত শাহ ও শাহেনশাহ (রহ.) হাফিজিয়া মাদরাসায় বিতরণ এবং মেয়ের বাবাকে নগদ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন ইউএনও বৈশাখী বড়ুয়া। এবং মেয়েটির পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত লোকজনকে বাল্যবিবাহের কুফল ও বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন বিষয়ে অবহিত করেন তিনি।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জলিলুর রহমান মির্জা দুলাল, থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) রমিজ উদ্দিন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) জিয়াউল হকসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা এবং গ্রাম-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
