
পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের জড়িত থাকার অভিযোগ!
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্ :
হাজীগঞ্জের নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয় ভাংচুরের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে। আর এ ঘটনায় খোদ পরিচালনা পর্ষদের সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। গত ১৪ নভেম্বর এসএসসি পরিক্ষার ফরম পূরণ করতে না পারা শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়টি ভাঙচুর করে। পরে ৬ ডিসেম্বর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া ও মানিক হোসেন প্রধানীয়ার উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠকে ভাঙচুরকারী শিক্ষার্থীরা পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য বাবুলের (আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল) উস্কানিতে এ কাজটি করে বলে স্বীকার করে ।
এদিকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের উস্কানিতে শিক্ষার্র্থীদের ভাঙচুরের ঘটনা এলাকাবাসী জানার পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা যায়। এ ঘটনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখি বড়ুয়া তদন্ত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রুহুল আমিনকে শোকজ করেছেন এবং শোকজের জবাব ৭ দিনের মধ্যে দিতে বলা হয়েছে।
জানা যায়, নাসিরকোট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার অংশগ্রহণের জন্য ২৪৩জন শিক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ১৪২ জনের ফরম পূরণ করা হয়েছে। ঝরে পড়া ১০১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গত ১৪ নভেম্বর ভাঙচুর করে বিদ্যালয়ের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। ভাঙচুরে ১২ জন শিক্ষার্থীকে সনাক্ত করা হয়।
গত মঙ্গলবার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া ও মানিক হোসেন প্রধানীয়ার উপস্থিতিতে সালিসি বৈঠকে ভাঙচুরকারী শিক্ষার্থীরা পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক সদস্য বাবুলের (আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল) উস্কানিতে এ কাজটি করে বলে স্বীকার করে (ভিডিও আছে) এবং তাদের সাথে আরো ৬ জন শিক্ষার্থী জড়িত থাকার কথা বলে।
এক ছাত্রের ভিডিও ফুটেজ থেকে জানা যায়, সে সহপাঠীদের মোবাইল ফোন পেয়ে বিদ্যালয়ে এসেছে। আসার পর বাবুল মিয়া (অভিভাবক সদস্য) আমাদের বলে তোরা দাঁড়া, আমি উপর (বিদ্যালয়ের অফিস) থেকে আসি। উপর থেকে আসার পর তিনি বলেন, তোদের ফরম ফিলাপ হবে না। স্যারেরা কিভাবে ফরম ফিলাপ করাবে, যদি ইউএনও স্যার না করে। তখন আমরা বলি, এখন আমরা কি করবো। উনি বলেন, অন্যান্য স্কুল যেভাবে ভাঙচুর করেছে, তোরা সেভাবে কর। তোরা হামলা শুরু করে দে, তখন সব ঠিক হয়ে যাবে।
অভিভাবক সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বাবুল মুঠোফোনে এক সংবাদকর্মীকে বলেন, আমি ও অপর দুই অভিভাবক সদস্যকে ফাঁসানোর জন্য শিক্ষার্থীদেরকে এসব কথা শিখিয়ে দেয়া হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমরা ভিলেজ পলিটিক্সের শিকার এছাড়া আর কিছুই না।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন জানান, এবারে ফরম পূরণে অধিকাংশ সুপারিশ ছিলো অভিভাবক সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বাবুলের। আর এ ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। আমি ও সভাপতি এবং বিদ্যালয়ের সুনাম খাটো করা জন্য এ কাজটি করা হয়েছে বলে আমি মনে করি।
ম্যানেজিং কমিটির সদস্যের ইন্ধনে ভাংচুরে ঘটনা নিশ্চিত করেছেন, রাজারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আালহাজ আ. হাদী ও কালচোঁ উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানিয়া। এ বিষয়ে মানিক হোসেন প্রধানিয়া মুঠোফোনে ও আলহাজ আব্দুল হাদী মিয়া জানান, বুধবারের সালিশ বৈঠকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের ভাঙচুরের জন্য একই বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম বাবুলকে দায়ী করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে এবং তারা হাত জোড় করে ক্ষমা চেয়েছে।
থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাবেদুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে মামলা দায়েরের (বৃহস্পতিবার) প্রস্ততি চলছে। মামলা শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়–য়া জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছে এবং পূণরায় তদন্ত করার জন্য নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিদ্যালয় ভাঙচুরের ঘটনা প্রধান শিক্ষক প্রশাসনকে জানায়নি। যার ফলে প্রধান শিক্ষককে শোকজ করে ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।