হাজীগঞ্জে পুলিশি চেকপোস্টে সবার ইমার্জেন্সী

মাস্কের ব্যবহার বাড়লেও নেই শারীরিক দূরত্ব

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে সীমিত পরিসরের ৩ দিনের ‘লকডাউনের’ দ্বিতীয় দিন পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুন) যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে চেকপোস্টে কড়াকড়ি আরোপ করেছে পুলিশ। মোটরসাইকেলে দুইজন আরোহী ও সিএনজিচালিত স্কুটারের যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যারা সদোত্তর দিয়েছেন, শুধুমাত্র তারাই চেকপোস্ট অতিক্রম করতে পেরেছেন। অন্যারা যেদিক থেকে এসেছেন, সেদিকেই তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে চেকপোস্টে সবচেয়ে বেশি লক্ষনীয় ছিল, যাত্রী ও পথচারীদের ইমার্জেন্সী মনোভাব। পুলিশের সদস্যরা যাকেই ঘর থেকে বের হয়ে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করছেন, তিনিই ইমার্জেন্সী দেখাচ্ছেন। এখন কে সত্য আর কে মিথ্যা বলছেন, তা যাচাই করা ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার। গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এমন চিত্রই হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় দেখা গেছে।
তবে দুপুরের পর থেকে পুলিশি চেকপোস্টের জিজ্ঞাসাবাদে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় বৃষ্টি। এদিন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে চেকপোস্ট ফাঁকা হয়ে পড়ে। তাই পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়াও রাজপথ দাপিয়ে বেড়িয়েছে সিএনজিচালিত স্কুটার, অটোরিক্সা ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা, মিশুকসহ ব্যক্তিগত যানবাহনগুলো। তবে সোমবারের মতো গতকাল মঙ্গলবার বন্ধ ছিলো দূরপাল্লার যাত্রীবাহী পরিবহন।
চেকপোস্টে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, কোনো মোটরসাইকেলে দু’জন আরোহী থাকলেই সেগুলোকে থামানো হচ্ছে। থামানো হয়েছে সিএনজিচালিত স্কুটার এবং অটোরিক্সাকেও। সড়কে বের হওয়ার উপযুক্ত কারণ উপস্থাপন করতে না পারলে সেসব যানবাহন ও চালকদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এসময় কিছু স্কুটার ও অটোরিক্সা চালক এবং বেশ কিছু যাত্রীদের পুলিশের উপর চড়াও হতে দেখা গেছে।
পুলিশ শাস্তিস্বরূপ কিছু সিএনচিালিত স্কুটার ও অটোরিক্সা আটক করলেও পরে তা ছেড়ে দিয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র না থাকায় বেশ কিছু মোটরসাইকেল আটক করে ট্রাফিক পুলিশ। দেখা গেছে, যানবাহন ও পথচারীদের তুলনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য কম হওয়ায়, বাজারমুখী লোকজনকে ফেরাতে রীতিমতো কষ্টকর আর পীড়াদায়ক হয়ে উঠেছে পুলিশের জন্য।
এদিকে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, হাট-বাজারগুলোতে প্রতিদিনের মতো ছিল স্বাভাবিক কার্যক্রম। মানুষ বাজারে আসছেন, আবার কেনাকাটা করে চলে গেছেন। এর মধ্যে ক্রেতা-বিক্রেতা, চালক ও যাত্রীসহ মাস্ক পরিধানকৃত অন্যান্য লোকের সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা বেশি দেখা গেছে। তবে শারীরিক দূরত্বের কোন বালাই ছিলো না। আবার যারা মাস্ক পরেছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই নাক-মুখ ঢাকার পরিবর্তে থুতনিতে মাস্ক নিয়ে চলাফেরা করছেন।

৩০ জুন, ২০২১।