হাতিয়ে নিতেন মুঠোফোন ও টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মো. রাছেল পাটোয়ারী (২৮) নামের এক নকল পুলিশ সুপারের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে আদালত। গত শনিবার (২ মার্চ) আদালতে সোপর্দ করে আদালতে সোপর্দ করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আবদুর রশিদ।
এর আগে বৃহস্পতিবার নকল এই পুলিশ সুপারকে হাজীগঞ্জ বাজার থেকে আটক করে আসল পুলিশের হাতে তুলে দেয় ব্যবসায়ীরা। এসময় তার কাছ থেকে দুটি চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করে পুলিশ। মো. রাছেল পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলার চর-বাকিলা গ্রামের পাটোয়ারী বাড়ির ফিরোজ আহমেদ পাটোয়ারীর ছেলে।
রাছেল পাটোয়ারী নিজেকে মুঠোফোনে ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়েছে নিজেকে পুলিশ সুপারসহ পুলিশের বিভিন্ন পদধারী কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে চুরিসহ মানুষের সাথে প্রতারণা করে মোবাইল ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান বিভিন্ন জিনিসপত্র হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
গত সপ্তাহে হাজীগঞ্জ থানা রোডস্থ হৃদয়ের সেলুনে দাড়ি-গোঁফ কাটতে এসে নিজেকে পুলিশের এসপি পরিচয় দেয় রাছেল পাটোয়ারী। ওই সময় সেলুন কর্মীদের ব্যস্ততাকে কাজে লাগিয়ে সে দুইটি মোবাইল ফোন নিয়ে সটকে পড়ে এবং ওই মোবাইল মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানে ১৫ হাজার টাকা বিক্রি করে দেয়।
এমন ঘটনার থেকে রাছেল পাটোয়ারীকে ধরার জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিতে থাকে সেলুন মালিক হৃদয়। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার রাছেল পাটেয়ারী হাজীগঞ্জ বাজারের থানা রোডস্থ এলাকায় আসলে হৃদয় বিষয়টি জানতে পারে এবং পরে লোকজন নিয়ে তাকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশকে খবর দেয়।
খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশ রাছেল পাটোয়ারীকে আটক করে। এসময় তার কাছ থেকে দুইটি চোরাই মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরে পুলিশের কাছে স্বীকার করে রাছেল পাটোয়ারী জানায়, সে বিভিন্ন সময়ে নিজেকে এসপিসহ পুলিশের বিভিন্ন পদধারী কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে দিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করে থাকে।
এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুর রশিদ সংবাদকর্মীদের জানান, রাছেল পাটোয়ারী পুলিশের বিভিন্ন পদবি এবং বিকাশের কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্নস্থানে পুলিশের ভুয়া এসপি পরিচয়ে কয়েকটি মামলাও রয়েছে।
এ বিষয়ে সর্বস্তরের জনসাধারণকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশের কোন সদস্য তার পুলিশ পরিচয় দিয়ে ব্যক্তিগত কেনাকাটা করেন না। এছাড়া বিকাশ বা অন্যান্য মোবাইল ব্যাংকিং অফিস থেকে কখনো গ্রাহকের পরিচয় ও পাসওয়ার্ড জানতে চায় না। যার জানতে চায়, তারা প্রতারক।
০৪ মার্চ, ২০২৪।
