হাজীগঞ্জে প্রচুর গরু, ক্রেতা কম, দামও চড়া

বড় গরুর তুলনামূলক দাম কম

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
পবিত্র ঈদুল আজহার মাত্র দুই দিন বাকি। হাজীগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটে প্রচুর গরুর আমদানি হলেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতা অনেক কম। এর মধ্যে যারা গরু ক্রয় করছেন, তাদের মধ্যে মাঝারি গরু ক্রয়ের ক্রেতাই বেশি। দামও গত বছরের চেয়ে কিছুটা চড়া। আবার বড় গরুর ক্রেতা কম, দামেও সস্তা। কয়েক দিন ধরে হাজীগঞ্জের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) হাজীগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বাকিলা বাজার ও বেলচোঁ বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। বাঁশের খুঁটিতে সারিবদ্ধভাবে বেঁধে রাখা হয়েছে গরু। পাশাপাশি অনেক ছাগলও রয়েছে। লোকজনও অনেক বেশি। তারা বাজার ঘুরে ঘুরে গরু দেখছেন, আর দরদাম করছেন। কিন্তু এদের মধ্যে বেশিরভাগ লোকজন কিনতে নয়, দাম যাচাই করতে এসেছেন।
মাঝারি সাইজের গরু ক্রয় করেছেন মাহতাব হোসেন সবুজ নামের একজন ক্রেতা জানান, গত বছর যে গরু (ষাড়) ১ লাখ ১০ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। এ বছর সেই সাইজের গরুর দাম ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। অপরদিকে ইউছুফ আলী নামের একজন ক্রেতা জানান, ৭ জন শরীকদার (অংশিদার) মিলে তিনি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে যে গরু ক্রয় করেছেন। মাঝারি গরুর দাম হিসাবে তার দাম প্রায় ২ লাখ টাকা রয়েছে।
এদিকে ক্রেতা ও বিক্রেতারা আশা করছেন, বিকালে পর অনেক গরু ক্রয়-বিক্রয় হবে। তাছাড়া হাতে আরো দুই দিন (শুক্রবার ও শনিবার) রয়েছে। এ দুইদিন প্রচুর গরু বিক্রয় হবে। তবে গরুর দাম বৃদ্ধিও থাকতে পারে আবার স্বাভাবিক কিংবা দাম কমেও যেতে পারে।
কথা হয় কয়েকজন খামারি ও কৃষকের সাথে। তারা জানান, সব ধরনের গো-খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। যার ফলে গরু লালন-পালনের খরচও অনেকাংশ বেড়ে গেছে। কিছুটা দাম বেশি হলেও গরু লালন-পালনে যে ব্যয় হয়েছে, তা উঠে আসবে না। এদিকে যারা এখনো গরু বিক্রি করতে পারেননি তারা দাম পাওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ হিসাবে তারা বলেন, গরুর পেছনে প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০০ টাকা খরচ হচ্ছে।
গরু কম বিক্রির বিষয়টি জানিয়ে বাকিলা বাজারের ইজারাদার ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অমল ধর জানান, সকাল থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এক থেকে দেড়শ’ গরু বিক্রি হয়েছে। অথচ গত বছর এই সময়ে হাজারখানেক গরু বিক্রি করেছি। জানি না, কি কারণে এমনটি হচ্ছে।

০৮ জুলাই, ২০২২।