হাজীগঞ্জে বাপ্পীর মরদেহ উদ্ধারের ২০ দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে মো. আবু বকর বাপ্পীর (৩২) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ২০ দিনেও রহস্য উদঘাটন হয়নি। এ ঘটনায় কাউকে আটক বা গ্রেপ্তারও করা হয়নি। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা জানতে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে তথ্য-প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করে হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, মামলার তদন্ত কাজ চলছে।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজের তিনদিন পর বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ সেলিম মিয়ার বড় ছেলে মো. আবু বকর বাপ্পীর (৩২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়কের পৌরসভাধীন ১১নং ওয়ার্ডের রান্ধুনীমুড়া গ্রামের সোলেমান বেপারী বাড়ি ওরফে হুনার বাড়ির পুকুর থেকে এই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মো. আবু বকর বাপ্পী পৌরসভাধীন ৫নং ওয়ার্ড মকিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। তার স্ত্রী এবং মো. আব্দুল্লাহ্ (৫) ও আদিবা (৩) নামের দুই শিশু সন্তান রয়েছে। এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় বাপ্পী। পরবর্তীতে তার কোন খোঁজ না পেয়ে পরদিন তার বাবা হাজীগঞ্জ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি (নং- ১০৪১) করেন।
থানা সূত্রে জানা গেছে, ২২ ফেব্রুয়ারি সকালে পৌরসভাধীন রান্ধুনীমুড়া এলাকার সোলেমান বেপারী বাড়ির পুকুরে মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন তৎকালীন থানার ওসি মো. আলমগীর হোসেন রনি ও পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মুহাম্মদ আব্দুর রশিদসহ জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো. সুমন মিয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তা।
পরে পুলিশ পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট সম্পন্ন এবং ঘটনার সাথে জড়িত বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। বিষয়টি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে নিখোঁজ বাপ্পীর পরিবারের লোকজন উপস্থিত হয়ে তার মরদেহ নিশ্চিত করেন। এরপর চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে বাপ্পীর মরদেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। ওইদিন রাতেই তার জানাযা শেষে দাফন সম্পন্ন এবং পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি পরিবারের পক্ষ থেকে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
এদিকে পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত আবু বকর বাপ্পীর বাবা আলহাজ সেলিম মিয়া সংবাদকর্মীদের জানান, পুলিশ আমাদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে এবং আমাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। আশা করি খুব শীঘ্রই রহস্য উদঘাটন করবে পুলিশ।
এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ জানান, বাপ্পীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত কাজ চলমান। পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের দেয়া তথ্য এবং তথ্য-প্রযুক্তির প্রতি গুরুত্ব দেয়া তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি হত্যা না আত্মহত্যা, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এলে বিস্তারিত জানা যাবে।
১৪ মার্চ, ২০২১।