হাজীগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

মামলার শিকার বিএনপি নেতাকর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে
……….অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
বিএনপির কেন্দ্রিয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে হাজীগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জ্বালানী তেল, পরিবহন ভাড়াসহ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং ভোলায় পুলিশের গুলিতে ছাত্রনেতা নূরে আলম ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আব্দুর রহিমকে হত্যার প্রতিবাদে গতকাল শনিবার বিকালে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলটি হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল পাইলট হাই স্কুল এন্ড কলেজ মাঠ থেকে বের হয়ে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের হাজীগঞ্জ বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাজীগঞ্জ বাজারস্থ মকিমাবাদ এলাকায় সমাবেশস্থলে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, ২২ সালের মধ্যেই শেখ হাসিনা সরকারের পতন এবং ২৩ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠন করবে। বিষয়টি তাদের নেতারা বুঝে গেছে। সেজন্য পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে সাহায্য চায় তারা। কিন্তু লাভ নেই। কারণ, ইতোমধ্যে বিদেশিরাও তাদের লাল নোটিশ দেখিয়ে দিছে।
আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, জ¦ালানি তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। সবকিছু আজ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। ‘৭৪ এর দুর্ভিক্ষ মানুষের ঘরে ঘরে নেমে এসেছে। তাই এসবের বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করছি। এমনকি আওয়ামী লীগের নেতারা এবং পুলিশও চায় আমরা আন্দোলন করি। কারণ, ভুক্তভোগী শুধু বিএনপি নয়, আওয়ামী লীগসহ আমরা সবাই। শুধুমাত্র দুর্নীতিবাজরাই শেখ হাসিনার পক্ষে রয়েছে।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, রাত পোহালেই দেখবেন শেখ হাসিনা নেই। সেজন্য নেতার (তারেক জিয়া) নির্দেশ, আপনাদের রাজপথে থাকতে হবে। ভয় নেই, এই ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের চাকরি ফিরিয়ে দেয়া হবে। যারা মামলার শিকার হয়েছেন, তাদের মামলা তুলে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে। আর যারা গায়ে (শরীর) হাত দিয়েছে তাদের বিচার নেতাকর্মীরাই করবে।
এসময় তিনি হাজীগঞ্জের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিতির প্রশংসা করেন। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক ইঞ্জি. মমিনুল হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার নির্দেশনা এবং ইভিএম’র মাধ্যমে ভোট বাতিলে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পৌর বিএনপির সভাপতি নাজমুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল উদ্দিন চৌধুরী, মো. রফিক সিকদার, কাজী রফিকুল ইসলাম ও মোস্তফা খান সফরি, কেন্দ্রীয় ওলামা দলের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মাও.. নজরুল ইসলাম, মরহুম আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএ রহিম পাটওয়ারীর পরিচালনায় স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হাজীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ মো. ইমাম হোসেন, সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম ভুট্টু প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল খায়ের মজুমদার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আকতার হোসেন দুলাল, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির সুমন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সেলিম, সদস্য সচিব বিল্লাল হোসেন পাটওয়ারী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক বিল্লাল হোসাইন বেলাল, সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম চৌধুরী মিঠু, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মজিবুর রহমান, সদস্য সচিব ইকবাল সর্দার।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ইমাম হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক এস.এম ফয়সাল হোসেন, সদস্য সচিব জুয়েল রানা তালুকদার, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু ইউছুফ, সদস্য সচিব দ্বীন ইসলাম টগর, পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম হীরা, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানাসহ উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েক সহস্রাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক।

২৮ আগস্ট, ২০২২।