হাজীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই

স্থানীয় সাংসদের নির্দেশে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
হাজীগঞ্জে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলার কালোচোঁ উত্তর ইউনিয়নের স্থানীয় মাড়কি গ্রামের প্রধানীয়া (বক্সে আলী মজুমদার) বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হলো- ওই বাড়ির মৃত আমজাদ আলীর ছেলে বাদশা মিয়া, বাদশা মিয়ার ছেলে শাহজাহান ও কবির, মৃত ছামেদ মিয়ার ছেলে বিরাম খাঁ ও সফিকুর রহমান। অগ্নিকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ দিন সকালে ওই বাড়ির কবিরের ঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুন নেভাতে বাড়ির লোকজন ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে চেষ্টা চালায়, কিন্তু আগুনের ভয়াবহতার সামনে কেউ যেতে পারেনি।
পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের দু’টি ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রায় দেড়ঘণ্টার চেষ্টায় পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততোক্ষণে ৫টি বসতঘরসহ ওই পরিবারগুলোর রান্নাঘর, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা, পোশাক ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে কয়েক সহস্রাধিক উৎসুক জনতার ভিড় জমে।
৫টি ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মানিক হোসেন প্রধানিয়া বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়া পরিবারগুলোর সদস্যদের পরনের বস্ত্র ছাড়া আর কিছুই নেই। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমসহ উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সিদ্দিকুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় এক ঘণ্টা ১০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তিনি বলেন, আগুনে পুড়ে ৫টি পরিবারের প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম দিপু জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ২ বান করে ১০ বান ঢেউটিন, ৬ হাজার করে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং শুকনো খাবার (চাল, ডাল, তৈল, বিস্কুট, চিনি, লবণ ইত্যাদি) বিতরণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এছাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মাইনুদ্দিন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার প্রতি ৫ হাজার করে নগদ ২৫ হাজার টাকা বিতরণ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বৈশাখী বড়ুয়া জানান, সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমের পরামর্শক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, পরবর্তীদের তাদের নতুন বসতঘর করে দেয়ার ব্যবস্থা নেয়া হবে।

৪ জুলাই, ২০১৯।