মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
জেলা পরিষদের অর্থায়নে হাজীগঞ্জের এক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির পুকুরে গণঘাটলা নির্মাণ হওয়ার কথা। কিন্তু সেই গণঘাটলা নির্মিত হয়েছে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির পুকুরে। এ নিয়ে হাজীগঞ্জে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তবে জেলা পরিষদের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বিষয়টিকে মিসটেক (ভুল) বলছেন।
ঘটনাটি উপজেলার দ্বাদশগ্রাম ইউনিয়নের ইছাপুরা গ্রামের। জেলা পরিষদের অর্থায়নে হাজীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের নামে একটি গণঘাটলার বরাদ্দ দেয়া হয়। কিন্তু সেই ঘটলা নির্মাণ করা হয়েছে ওই ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানিয়ার বাড়ির পুকুরে। নির্মাণ শেষে নেমপ্লেট বসানোর পরই বিষয়টি জানাজানি হয়।
সরজমিনে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের প্রধানিয়া বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ওই বাড়ির পুকুরে দুটি পাকা ঘাটলা রয়েছে। একটি নতুন, আরেকটি পুরোনো। নতুন ঘাটলাটির নেমপ্লেটে লেখা রয়েছেÑ ‘হাজীগঞ্জ উপজেলাধীন ইছাপুরা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের-এর বাড়ির সামনে গণঘাটলা নির্মাণ’।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা যায় ব্যাপারটি উল্টো। কারণ, মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের বাড়ি ওই গ্রামের মিজি বাড়ি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত গণঘাটলায় নেমপ্লেট লাগানোর পর বিষয়টি স্থানীয়দের মাঝে জানাজানি হয়।
স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, সবাই ভেবেছে নতুন চেয়ারম্যান হয়েছেন, তাই হয়তো তার বাড়িতে ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু সাইনবোর্ড (নেমপ্লেট) লাগানোর পর সবাই জানতে পেরেছে, এটি মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির ঘাটলা। তারা বলেন, দু’জনের (চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা) নামের মিল থাকার কারণে হয়তো এক বাড়ির পুকুরের ঘাটলা আরেক বাড়িতে নির্মাণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের সংবাদকর্মীদের জানান, গত ৩/৪ দিন ধরে এলাকা থেকে জানতে পারি নতুন চেয়ারম্যানের বাড়িতে একটি পাকা ঘাটলা নির্মিত হয়েছে। সেই ঘাটলায় আমার নেমপ্লেট বসানো হয়েছে। আমি ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।
ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানিয়ার বাবা নূরুল ইসলাম প্রধানীয়া জানান, লোকজন (ঠিকাদার) এসে আবু তাহেরের বাড়ির পুকুর কোনটি জানতে চাইলে আমরা জায়গা দেখিয়ে দেই। তখন নির্বাচন চলছিল। আমার ছেলে (আবু তাহের প্রধানীয়া) চেয়ারম্যান প্রার্থী। আমরা সবাই নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। এর মধ্যে ঘাটলা নির্মাণ হয়ে গেছে। আমার ছেলেও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
তিনি বলেন, নির্মাণ কাজ শেষে কয়েক দিন পর ঘাটলার নেমপ্লেট লাগানো হয়। তখন দেখি নেমপ্লেটে লেখা আছেÑ বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবু তাহের-এর বাড়ির সামনে গণঘাটলা নির্মাণ।’ কিন্তু আমার ছেলে তো ‘মুক্তিযোদ্ধা’ না।
এদিকে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান আবু তাহের প্রধানীয়ার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের বলেন, বাড়িতে আমার মা, বাবা, ভাইয়েরা থাকেন। আমি নিজে বাড়িতে থাকি না। তাছাড়া ঘাটলাটি নির্মাণের সময় আমি আমার নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণার কাজে ব্যস্ত ছিলাম। পরবর্তীতে ঘাটলাটিতে নেমপ্লেট লাগানোর পর জানতে পারি এটি মুক্তিযোদ্ধা বাড়ির ঘাটলা। তিনি বলেন, নির্মাণের আগে যদি জানতে পারতাম এটি মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের বাড়ির ঘাটলা, তাহলে আমার বাড়িতে ঘাটলা নির্মাণ করার প্রশ্নই ওঠে না।
জেলা পরিষদের প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসেন সংবাদকর্মীদের জানান, ঠিকাদার মিসটেক (ভুল) করে ফেলছে। দু’জনের নাম এক এবং পাশাপাশি বাড়ি-তো। পরে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির পুকুরে আরেকটি গণঘাটলা নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।
০৫ এপ্রিল, ২০২৩।
