হাজীগঞ্জে লবণের দাম বৃদ্ধির গুজবে হুলস্থুল কান্ড

মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
লবণের দাম বাড়ছে, প্রতি কেজি হবে ১০০ টাকা। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ছে হাজীগঞ্জে। এতে কেউ ৩/৫/১০ কেজি, আবার কেউ এক বস্তা (২৫ কেজি) পর্যন্ত লবণ কিনেছেন। যার ফলে অনেক দোকান লবণশূন্য হয়ে পড়ে। আবার অনেক দোকানদার (ব্যবসায়ী) লবণ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজার এবং পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে এমন ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল মঙ্গলবার হাজীগঞ্জ বাজারসহ বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে লবণ ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় লবণের দাম বৃদ্ধির গুজব উঠে হাজীগঞ্জে। এরপর থেকে সাধারণ মানুষ লবণ কিনতে ভিড় করছেন বিভিন্ন দোকানে। গুজবে বিভ্রান্ত হয়ে সাধারণ মানুষ যেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ কিনছে, অন্যদিকে বেশি মুনাফার লোভে লবণ বিক্রি করা বন্ধ করে দিয়েছে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। আবার অনেকে কেজি প্রতি ৫/১০ বেশি দামে লবণ বিক্রি করেছেন বলে ক্রেতাদের অভিযোগ। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
পৌরসভাধীন এলাকার কয়েকজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বলেন, শুনেছি লবণের দাম বেড়ে প্রতি কেজি ১শ’ থেকে ১২০ টাকা হবে। এমন খবরে মানুষ একাধিক কেজি লবণ কিনতে আসে। এবং এই অতিরিক্ত বিক্রির কারণে মুহূর্তেই অনেক দোকান লবণ শূন্য হয়ে যায়। আবার অনেকে লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেন।
জানা গেছে, প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিকন লবণ ৩৫ টাকা এবং মোটা লবণ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সোমবার সন্ধ্যায় থেকে দাম বৃদ্ধির গুজবে অনেকেই তাড়াহুড়ো করে লবণ কিনছেন। আবার অনেকে কেনার চেষ্টা করছেন।
কথা হয়, বেশ কয়েকজন লবণ ক্রেতার সাথে। এর মধ্যে ৩ কেজি লবণ ক্রয় করতে আসা অলিল খান ও ৫ কেজি ক্রয় করতে আসা আমির হোসেন নামের দু’জন ক্রেতা জানান, শুনেছি লবণের কেজি ১শ’ টাকা হবে। তাই দাম বাড়ার (বৃদ্ধি) আগে কয়েক প্যাকেট লবণ কিনে রেখেছি।
নাস্তা (পরোটা, সিঙ্গারা, পুরি, চমুচা ইত্যাদী) বিক্রয়কারী মিজানুর রহমান নামের গ্রামের একজন দোকানদার বলেন, লবণের দাম বাড়বে। তাই এক বস্তা (২৫ কেজি) কিনে রেখেছি। তবে কে বলেছে দাম বৃদ্ধি পাবে বা কোথা থেকে এমন খবর পেয়েছেন, এর জবাবে তারা সবাই ‘শুনেছেন’ বলে জানান।
শহীদুল ইসলাম নামের একজন মুদি ব্যবসায়ী জানান, তার দোকানে ১০ বস্তা চিকন এবং ২ বস্তা মোটা লবণ ছিলো। সোমবার সন্ধ্যার পরে মাত্র দুই ঘণ্টায় দোকানের সব লবণ বিক্রি হয়ে যায়। তিনি বলেন, এ দিন (সোমবার) রাতে মানুষ দেখি ৩/৫ কেজি করে লবণ কিনতে আসা শুরু করে। প্রথমে আমি বিষয়টি বুঝতে পারিনি। পরে তাদের (ক্রেতা) কাছ থেকে শুনলাম, লবণের দাম নাকি বৃদ্ধি পাবে। তাই তারা কিনতে আসছেন।
শহিদুল ইসলাম আরো বলেন, আমি ব্যবসায়ী হয়ে জানি না লবণের দাম বাড়ছে। অথচ মানুষ গুজবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত লবণ কেনা শুরু করে। দাম বাড়ার কোনো খবর নেই এবং লবণেরও সংকট নেই। এ কথাটি বলার পরও কোন ক্রেতাই আমার কথা শুনেনি। বরং এ কথা বলার পর, দু’একজন ক্রেতার সাথে তর্ক-বিতর্ক পর্যন্ত হয়েছে, বলে তিনি জানান।
হাজীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ আসফাকুল আলম চৌধুরী বলেন, লবণের সংকট নেই। বাজারে পর্যাপ্ত লবণ আছে। সুতরাং দাম বাড়ার কোন কারণ নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বৈশাখী বড়ুয়া বলেন, এটা নিছক গুজব। যা অসাধু চক্রের কাজ। তাই গুজবে কান না দিয়ে, উপজেলাবাসীকে সচেতন হওয়ার আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, এ ধরনের গুজব কেউ ছড়ালে এবং গুজবে কান দিয়ে কেউ বেশি দামে লবণ বিক্রি করলে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।