সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি
মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্
দৈনিক ইলশেপাড়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ‘হাজীগঞ্জে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বাড়িতে ডেলিভারী, প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু’ অভিযোগের তদন্ত করেছে কমিটি। ঘটনার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি এবং অভিযুক্ত পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বুধবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ।
এর আগে মঙ্গলবার দিনব্যাপী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের বিষয়টি তদন্তপূর্বক রিপোর্ট পেশ করেছেন তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি। কমিটির সদস্যরা হলেন জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ডিস্ট্রিক কনসালটেন্ট ডা. মো. নাছির, হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা ও চাঁদপুর সদর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. এম.এ গফুর মিয়া।
গত ১২ মে ‘হাজীগঞ্জে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বাড়িতে ডেলিভারী, প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু’ বিয়য়ক একটি সংবাদ জেলার বহুল প্রচারিত দৈনিক ইলশেপাড়ের প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত হয়। এরপর নড়েচড়ে বসেন চাঁদপুরের জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে করা হয় তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।
তদন্ত কমিটির সদস্য ও হাজীগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা জানান, সংবাদে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। তদন্তে বিস্তারিত উল্লেখপূর্বক অভিযুক্ত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শীকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইলিয়াছ বলেন, তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়েছি। রিপোর্ট অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে শাস্তিস্বরূপ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ৮ মে বিকালে হাজীগঞ্জে মাহমুদা আক্তার নামের একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা হাফসা আক্তার (১৯) নামের এক গর্ভবর্তীর ডেলিভারী করান। টাকার লোভে তিনি হাসপাতালে না পাঠিয়ে নিজ বাড়িতে ডেলিভারি করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ওই প্রসূতি মায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এ দিন রাতেই কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে এই প্রসূতি মা মারা যান।
অভিযুক্ত মাহমুদা আক্তার চাঁদপুর সদর উপজেলার রামপুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে কর্মরত। তিনি হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়ন ‘স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের পাশে অবস্থিত নিজ বাড়িতে বসবাস করেন এবং শুক্রবার বিকালে তিনি ওই বাড়িতে হাফসা আক্তারের ডেলিভারী করান।
নিহত হাফসা আক্তার হাজীগঞ্জ উপজেলার বাকিলা ইউনিয়নের সাতবাড়ীভাঙ্গা গ্রামের প্রধানীয়া বাড়ির আবুল হাশেমের মেয়ে এবং একই ইউনিয়নের লোধপাড়া গ্রামের বেপারী বাড়ির প্রবাসী আব্দুল মালেকের স্ত্রী। ডেলিভারীতে তার একটি পুত্র সন্তান জন্ম দিলেও তিনি সন্তান প্রসবকালীন সময়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান।
১৪ মে, ২০২০।
