হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য

হাজীগঞ্জ ব্যুরো
হাজীগঞ্জে সম্পত্তিগত বিরোধ নিয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এক পক্ষ বলছেন বিরোধ নিরসনে সালিসী বৈঠক চলাকালীন সময়ে অন্যের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলে নিয়েছেন। আবার অপরপক্ষ বলছেন, যেহেতু নিজেদের মধ্যে সম্পত্তির বন্টন হয়নি। তাই যার-যার সুবিধা মতো করে ভোগ-দখল করছেন। এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বেশ কয়েকবার সালিসি বৈঠক করেছেন। এর মধ্যে এক পক্ষ সম্পত্তি দখলের চেষ্টার অভিযোগ এনে সম্প্রতি থানায় অভিযোগ করেছেন।
অপর পক্ষ বলছেন, নিজ পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পত্তির সমন্বয় বা ভাগ-বাটোয়ারা না করে অন্যের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করেছেন। তারাও গত বছর থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন। এই বিরোধের জেরে বর্তমানে দুই পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছেন। সম্প্রতি উপজেলা গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের পশ্চিম গন্ধর্ব্যপুর গ্রামের ফরহাদুল ইসলাম মিঠু সংবাদকর্মীদের কাছে একই বাড়ির মো. ইউনুস মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন বিষয়টি প্রতিকার কামনা করেন।
তিনি বলেন, পৈত্রিক সূত্রে গন্ধর্ব্যপুর মৌজার ৬১৭ ও ৬১৮নং খতিয়ানের ১৮৪ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। এই সম্পত্তির মধ্যে কবরস্থান ও পথের জন্য সাড়ে ৪ শতাংশ ভূমি রাখা হয়েছে। বাকি ১৮০ শতাংশ ভূমি তার দাদা মৃত আব্দুল খালেক ও দাদার ভাই মৃত আব্দুর রহমান ও মৃত আব্দুল গফুর সমান ভাগে ৬০ শতাংশ করে মালিক।
তারা বাবা মফিজুল ইসলাম ওয়ারিশ সূত্রে মৃত আব্দুল খালেকের ৬০ শতাংশ ভূমির মালিক। এছাড়া তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি রয়েছে। যা বাবার ওয়ারিশ সূত্রে ফরহাদুল ইসলাম মিঠু ভোগ-দখলে আছেন। অপরদিকে মৃত আব্দুর রহমানের ৬০ শতাংশ ভূমি তার ৪ ছেলে মো. ইদ্রিস মিয়া, মো. ইউনুস মিয়া, শফিকুল ইসলাম ও মমিনুল ইসলাম এবং ২ মেয়ে রাশেদা বেগম ও শামছুন নাহার ওয়ারিস সূত্রে মালিক।
মৃত আব্দুর রহমানের ওয়ারিশ মো. ইউনুস মিয়ার সাথে তার অপর ৩ ভাই ও দুই বোনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিগত বিরোধ রয়েছে। এই বিরোধ নিরসনে সালিসি বৈঠক চলমান। অথচ নিজের ভাই-বোনদের সাথে সমন্বয় ও সম্পত্তিগত ভাগ-বাটোয়ারা না করে, শালিসি বৈঠক চলাকালীন সময়ে সম্প্রতি মো. ইউনুছ মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা তার চাচাতো ভাই মফিজুল ইসলামের দখলকৃত সম্পত্তির উপর জোরপূর্বক দো-চালা একটি টিনের ঘর নির্মাণ করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
বিষয়টি স্বীকার করে মো. ইউনুস মিয়ার ছোট ভাই মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, আমাদের নতুন ও পুরাতন বাড়িতে পৈত্রিক ৬০ ও ক্রয় সূত্রে ২৬ শতাংশ ভূমি রয়েছে। ৬০ শতাংশের মধ্যে ৫০ শতাংশ আমি, আমার ভাই ইদ্রিস ও শফিক এবং ১০ শতাংশ বোন রাশেদা ও সামছুন নাহার ভোগ দখলে আছে। অপর দিকে ইউনুস ভাই ২৬ শতাংশ ভোগ দখলে রয়েছেন। ওনি হিস্যা অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তার চেয়ে বেশি দখলে আছেন।
তিনি আরো বলেন, এসব বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ইউনুছ ভাইয়ের সাথে আমার বিরোধ রয়েছে। তিনি আমাদের ভাই-বোনের সম্পত্তির যার যার প্রাপ্য অনুযায়ী বুঝিয়ে না দিয়ে, এখন অন্যের সম্পত্তি (ফরহাদুল ইসলাম মিঠু) জোরপূর্বক দখল করেছেন।
এ সময় মমিনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমি ন্যায্য কথা বলার কারনে ইউনুস ভাই ও তার ছেলেরাসহ অপর চাচার ওয়ারিশদের সাথে নিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করার চেষ্টা ও হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। সম্প্রতি তারা আমার খড়ের স্তুফে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ বিষয়ে আমি থানায় অভিযোগ দেয়ার পর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার উপর ৪বার হামলার চেষ্টা করে।
এদিকে উল্লেখিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে মো. ইউনুস মিয়া বলেন, তৎকালীন সময়ে এসব সম্পত্তি বেহাত ছিল। আমি সময় ও শ্রম-ঘাম দিয়ে এবং আমার ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে এসব সম্পত্তি উদ্ধার করি। তখন শর্ত ছিল, উদ্ধারকৃত সম্পত্তির ৪ ভাগের এক ভাগ আমাকে দেয়া হবে। এখন তারা আমার সম্পত্তি বুঝিয়ে না দিয়ে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অন্যের সম্পত্তি দখল করবো কেনো? আমার বাবা ও চাচাদের মধ্যে এখনো সম্পত্তির বন্টন হয়নি। যে যার মতো করে এবং যার যার সুবিধা অনুযায়ী ভোগ দখল করছেন।

২৬ এপ্রিল, ২০২১।